News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

নারায়ণগঞ্জে জাপার রাজনীতি অন্ধকারে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম নারায়ণগঞ্জে জাপার রাজনীতি অন্ধকারে

রাজধানীর অদূরে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে একসময় জাতীয় পার্টি (জাপা) ছিল দৃশ্যমান ও সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতির মধ্য দিয়ে দলটি জেলার অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন মাঠে নেই কর্মসূচি, নেই সংগঠনের তৎপরতা দলটির রাজনীতি যেন গভীর অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই জেলায় জাপার কার্যক্রম কার্যত স্থবির। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দরের অংশ) এই দুই আসনকে কেন্দ্র করেই মূলত দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই আসনে জাতীয় পার্টির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউয়ে সেই শক্ত ভিত্তিও ভেঙে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একে এম সেলিম ওসমান রাজনৈতিক অঙ্গণে এখন প্রায় অনুপস্থিত। দলীয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও নিশ্চিত তথ্য খুব কম। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা কিছুটা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও আগের মতো সংগঠনগত জোর আর নেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট অনেকে নিষ্ক্রিয়, কেউবা অন্য রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলার জাপার দুর্বলতার পেছনে অন্যতম কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ক্ষমতার অংশীদার হয়ে দলটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সুবিধা পেলেও সাধারণ ভোটারদের কাছে ধীরে ধীরে স্বাধীন অবস্থান হারায়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান, ফলে তৃণমূল সংগঠন ভেঙে পড়ে।

সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত এর কাছে লিয়াকত খোকার পরাজয় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। ওই নির্বাচনের পর থেকেই জাপার সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে। দলটির সমর্থন ভিত্তি যে নড়বড়ে হয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয় ভোটের ফলেই।

এদিকে ওসমান পরিবার দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। ২০১৪ সালে নাসিম ওসমান এর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদে আসেন এবং পরবর্তী দুই নির্বাচনেও জয় পান। একই সময়ে তিনি শিল্পখাতের সংগঠন বিকেএমইএর নেতৃত্বেও ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রভাবও অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বর্তমানে জেলার রাজপথে জাতীয় পার্টির দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই। দলীয় কার্যালয়গুলোতেও তেমন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায় না। একসময় যেসব নেতাকর্মী মিছিল-সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন, তাদের বড় অংশ এখন নীরব। নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার কোনো লক্ষণও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের অভিমত, নারায়ণগঞ্জে পুনরায় সংগঠিত হতে হলে জাতীয় পার্টিকে প্রথমেই স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে জেলার রাজনীতিতে দলটির অস্তিত্ব আরও সংকুচিত হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। সামনে পথ কঠিন ফিরে আসা সম্ভব হলেও তার জন্য প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, নতুন নেতৃত্ব এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের বাস্তব পদক্ষেপ।