অবশেষে রহস্যের খোলস থেকে বেরিয়ে আসলেন রাকিবুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে পর্দার অন্তরালে কাজ করা এ তরুণ ব্যবসায়ী এবার প্রকাশ হলেন। নিজের বাবার নামে গঠন করা মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের ব্যানারে অসহায় পথশিশুদের ইফতার আয়োজন করে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তো বটেই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতেও তিনি আলোচনায়।

তাঁর আহবানে ইফতারে হাজির হন জেলা ও মহানগর বিএনপির একঝাঁক শীর্ষ নেতা। তরুণ এ নেতার ডাকে তাঁরা বেশ সরবভাবেই সাড়া দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দেখা দিয়েছে নতুন মেরুকরণ।
৮ মার্চ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইফতারে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহবায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল আলম সজল, সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর, ছাত্রদল নেতা রাহিদ শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য দিতে গিয়ে রাকিব বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জের সন্তান। নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে সব সময়ে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকতে চাই। মানুষের সেবার কাজে জড়িয়ে থাকতে চাই।
বক্তব্যে সিটি করপোরেশন এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডকেও গুরুত্ব দেন রাকিব। বলেন, সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে আমাদের সহযোগিতার হাত আরো বেশী করে প্রসারিত করতে চাই। যে কোন অভাবগ্রস্ত কিংবা অসহায় থাকলে আমরা তাদের পাশে থাকবো।
তিনি আড়াইহাজারের বাসিন্দা কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হঠাৎ করেই তার নাম নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।
সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। তাদের তথ্যও ভিন্ন। রাকিব আড়াইহাজারের হলেও গত কয়েক বছর ধরে সিটি করপোরেশন এলাকাতে রয়েছে তার নানা প্রভাব। সেটাও একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। এখানকার যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রাকিবের সুসম্পর্ক। আওয়ামী লীগ আমলে এসব নেতাদের যে কোন বিপদে ছায়াসঙ্গী হয়ে কাজ করেছেন রাকিব। এছাড়া শহরের একাধিক স্থানে রয়েছে বসত বাড়ি।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আজাদ ও রাকিব। ফোকাস ছিল আজাদের দিকে। বড় ভাইকে সামনে রেখে মিছিল আর আন্দোলনের পেছনে থেকে নেতাকর্মীদের সামনে ঠেলে দিয়েছেন রাকিব। হাল ধরেছেন অনেক পরিবারের। মামলায় কিংবা গ্রেপ্তারে কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। জামিন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অনেক কর্মীর বাড়িতে বাজার পৌছানো, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করেন তিনি। এসব কারণেই অন্তরালে তিনি ছিলেন বেশ আলোচিত।
সামনা সামনিও কম যাননি তিনি। খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দী হন সেদিন বিশাল মিছিল নিয়ে তিনি ছিলেন। এছাড়াও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকলে ছবি তোলার রাজনীতিতে নিজেকে পিছিয়ে রাখেন।

অনুসারী এও বলছেন, রাকিব গত কয়েক বছর ধরে সিটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে অসহায়দের পাশে ছিলেন। কখনো আর্থিক অনুদান কিংবা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। কিন্তু এগুলো প্রকাশ ও প্রচার করা হয়নি। বরং নিভৃতে কাজ করেছেন তিনি। সেসব কারণেই সিটি করপোরেশন এলাকাতে অনুসারীরাও চান রাকিব সামনে আসুক। কারণ আড়াইহাজারের মত একটি জনপদে সংসদ নির্বাচন করার অভিজ্ঞতাও তাকে সবল করেছেন।




































আপনার মতামত লিখুন :