News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষী

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ‘বি’ ক্যাটাগরির জুলাই যোদ্ধা মো. আল আমিন।

জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর সময় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছিলেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আল আমিন বলেন, ‘তাদের ছোড়া গুলি আমার বাম পায়ের গোড়ালির ওপরে লাগে। এখনো আমার পায়ের অবস্থা ভালো না। আমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটি।’

জবানবন্দিতে আল আমিন জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তিনি নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ব্রিজের নিচে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। জুমার নামাজের পর আন্দোলনকারীরা সেখানে মিছিল করছিলেন। দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন।

এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৪টার দিকে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, সাংবাদিক রাজু, ডিশ বাবুসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে গুলি চালান বলে দাবি করেন সাক্ষী।

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সহপাঠীরা তাকে প্রথমে পাগলা এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হলে তাকে খানপুরের নিউ সেফা অর্থোপেডিক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসা না পেয়ে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আল আমিন বলেন, মাগরিবের পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রায় আট ঘণ্টা কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে তাকে মালিবাগের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে হাসপাতালে থাকা নিরাপদ না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, সেই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাপত্র নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর পায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফেরেন। এখনো পায়ের সমস্যা পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।

জবানবন্দির একপর্যায়ে সাক্ষী তার পায়ের ক্ষতস্থান ট্রাইব্যুনালে দেখান। সেখানে ক্ষতস্থানে বড় গর্তের মতো চিহ্ন দেখা যায়। আল আমিন আরও দাবি করেন, ১৯ জুলাই জালকুড়ি এলাকায় সংঘর্ষে চার-পাঁচজন নিহত এবং ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

জবানবন্দির শেষ দিকে তিনি বলেন, যারা আমাকে গুলি করে আহত ও পঙ্গু করেছেন, আমি তাদের বিচার চাই।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাকাÐে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান। ছাত্র-জনতাকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজেও অস্ত্র হাতে গুলি চালিয়েছেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড সহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল ও ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে শামীম ওসমান তার সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে মামলার অন্য ১১ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাÐে অংশ নেন। মামলায় শামীম ওসমানের পাশাপাশি তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।