News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

স্থগিত বিএনপির পদ, হারানোর শঙ্কা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম স্থগিত বিএনপির পদ, হারানোর শঙ্কা

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আনোয়ার প্রধানের দুই পদ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

একই সাথে মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতের পদও স্থগিত করা হয়েছে যিনি আনোয়ার প্রধানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

রোববার (১১ অক্টোবর) মহানগরের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখর সাখাওয়াত হোসেন খানকে হেনস্তা করা হয়েছে।

আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেদিন বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের চেম্বারে আইনজীবীদের নিয়ে খাওয়ার আয়োজন করা হয়। বিপরীতে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের পক্ষে অন্য আইনজীবীদের নিয়ে খাওয়ার আয়োজন করা হয়। আর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এদিন দুই পক্ষের আইনজীবীরা মুখোমুখী অবস্থানে ছিলো।

এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহŸায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আদালতে প্রবেশ করেন এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের চেম্বারে বসেন। এসময় বিপরীত পক্ষে থাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের থেমে থেমে চিৎকার-চেঁচামেচি এবং হৈ-হুল্লোড় করতে থাকে।

পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এগিয়ে গিয়ে বিপরীতে থাকা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরকে জিজ্ঞাসা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। সেই সাথে আইনজীবীরা একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান। সেই সাথে একে অপরের সাথে সংবাদ মাধ্যমে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হন।

পরদিন আবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে শক্তি মহড়া প্রদর্শন করেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তাদের দুইজনকে কেন্দ্র করেই অনুসারীরা নারায়ণগঞ্জ আদালতে মহড়া দিয়ে যাচ্ছেন। কে কার থেকে বেশি শক্তিশালী সেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন তারা। আর এসকল ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বেশ আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।

পরবর্তীতে এই ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু স্বাক্ষরিত নোটিশে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ৬ অক্টোবর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। এ ধরনের আচরণের কারণ জানতে চাইলে তাঁরা তাঁর প্রতি মারমুখী হয়ে ওঠেন।

এ ছাড়া ঘটনার দিন অনলাইন গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান দাবি করেন, তাঁরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন এবং পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে চলে যান। নোটিশে আনোয়ার প্রধানের এ বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাইতে আহŸান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সেই আহবানে সাড়া দেননি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাঁর সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাঁকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

আর এই শোকজের প্রেক্ষিতে আনোয়ার প্রধান বলেছিলেন- এই আইনজীবী সমিতিতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কার্যক্রম চলে। যদি সংগঠনের কোনো ব্যর্থয় ঘটে থাকে তাহলে আইনজীবী ফোরাম আমাকে শোকজ করবে। সমিতির কোনো ব্যর্থয় ঘটালে সমিতি জবাব চাইতে পারে। যদি আমি মহানগর বিএনপির সংগঠন বিরোধী কোনো কাজ করে থাকি মহানগর বিএনপি জবাব চাইতে পারে। সেদিন যা হয়েছে তা কেবলমাত্র আইনজীবী ফোরাম এবং আইনজীবী সমিতি কেন্দ্রিক হয়েছে। আমার কক্ষে হয়েছে। এ ধরণের কারণ দর্শানোর নোটিশ আমাকে ব্যথিত করেছে মর্মাহত করেছে। এতে আমার বলতে লজ্জা হচ্ছে আইন না জানা অনভিজ্ঞ লোকদের যদি দায়িত্ব দেয়া হয় তখন তারা দলের জন্য এবং নিজের জন্য বিপজ্জনক।

পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শোকজের জবাব দিয়েছেন। তবে জবাব সন্তোষজনক হয়নি দাবী করা হয় পদ স্থগিতপত্রে। সেখানে বলা হয়, যে জবাব দিয়েছেন সেটাও ভুল আর মিথ্যায় ভরপুর। যার ক্ষমার অযোগ্য। আপনি সম্পূর্ণ দোষী এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে প্রমাণিত ও প্রতীয়মান হয়েছে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, পদ স্থগিত করা হলেও সেটা হারানোর শঙ্কা রয়েছে আনোয়ার প্রধানের। ইতোমধ্যে সে লক্ষ্যে কাজ করছে মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতারা।