ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েচে। ৬ অক্টোবর সকাল ৮টা হতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ওই অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।
৫ অক্টোবর রাতে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদের সভাপতিতে পরিবহন মালিক ও ছাত্র প্রতিনিধি সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়।
সেখানে পরিবহন মালিকেরা ২দিনের সময় চেয়েছে। দুইদিন পর আবারো প্রশাসক বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এ কারণে ছাত্ররা ধর্মঘটের কর্মসূচী স্থগিত ঘোষণা করেন।
সবশেষ গত ১ অক্টোবর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত বাস ভাড়া প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলো সাত ছাত্র সংগঠনের জোট ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। তাদের আল্টিমেটামে বলা হয়েছিলো- ৩ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী হাফ পাস চালুর দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।
জোটভুক্ত সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
এরই মধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সাধারণ যাত্রীদের সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা এবং নিঃশর্ত হাফপাশের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেছিলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহন ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করে। তাঁদের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত হার ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইওভারের টোলসহ এ রুটে ভাড়া কোনোভাবেই ৫৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
ভাড়া কমানোর দাবি তোলার পর মালিকপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করার কৌশল নিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন ছাত্রনেতারা।
সেদিনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৪ অক্টোবর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধ পালন করবে ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। সে হিসেবে আগামীকাল সড়ক অবরোধের সময় ঘনিয়ে আসছে। আর এই অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং ছাত্রদের মধ্যে পরিস্থতি উত্তপ্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তার আগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাতায়াতকারী বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাসে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসন, বাস মালিক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টার মিটিং করেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে শুরু করে ৯ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই দীর্ঘ সময় নিয়ে আলোচনা হয়।
সেই সাথে কোনো সমাধান ছাড়াই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা প্রশাসন, বাস মালিক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা আলোচনা স্থল ত্যাগ করেন। আলোচনা সভায় শিক্ষার্থী ও বাস মালিকরা সকলেই যার যার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে তাদের মাঝে অনেক সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিলো। সেই সাথে দীর্ঘ সময় নিয়ে একেকজন আলোচনা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান ছাড়াই বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা বের হয়ে যান।
দীর্ঘ সময় নিয়ে আলোচনার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া ৩৪ টাকার বিষয়টি বাস মালিকরা মেনে নেন। এরপর সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই সাথে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ৫৮ টাকা আদায়ে সিদ্ধান্তে পৌছেন। কিন্তু এই দাবী বাস মালিকরা মেনে নিতে চান না। তাদেরকে বিভিন্নজন বিভিন্ন বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস মালিকরা কোনোভাবেই ৫৯ টাকার কম ভাড়া নিবেন না। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
একই সাথে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাতায়াতকারী বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাসে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসন, বাস মালিক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিলো। সেদিনও প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠকেও ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বাস মালিকরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন।


































আপনার মতামত লিখুন :