নারায়ণগঞ্জে গত ১৩ এপ্রিল থেকে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। এখন পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত। এতে নগরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু একটি মহল ফের হকারদের বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতকে অবৈধ হকারদের দখলমুক্ত করতে ২০১৮ সালে উচ্ছেদ কর্মসূচি পালিত হয়েছিলো। সে সময় হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উভয় পক্ষের গুলি বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছিলো। তবে এর আগে ফুটপাতে হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসিকে বদলী করার ঘটনার প্রেক্ষিতে সে সময়কার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন টানা ৪৫দিন নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে কোনো প্রকার হকার বসতে দেননি। ফুটপাতের হকারদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্সনীতি টানা ৪৫দিন নগরবাসীকে হকারের দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছিলো। পরবর্তীতে হকার ইস্যুটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নিতে থাকে। আর হকারদের নিয়ে এই রাজনৈতিক রূপ দেওয়া শুরু করেন নারায়ণগঞ্জের বাম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা। সেসময় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, আবু নাঈম খান বিপ্লব সহ অন্যান্য বাম নেতারা হকারদের পক্ষে মাঠে নামেন। তাদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ সহ হকার বসতে না দিলে নারায়ণগঞ্জকে অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে, এর মধ্যে ঢুকে পড়েন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি যখন হকার এবং সিটি কর্পোরেশনের এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের একটি পুনর্বাসনের উদ্যোগে উভয়পক্ষ সম্মত হয়ে একত্রে কাজ শুরু করেন, এ নিয়ে স্থানীয় এমপি এবং সিটি মেয়রের মধ্যে চিঠি আকারে প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিলো ঠিক সেই সময় হকার ইস্যুতে এন্ট্রি নেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি ঘোষণা দেন হকার বসবে।
একই দিন সিটি মেয়র ঘোষণা দিয়েছিলেন জনগণকে সাথে নিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হবে। দুইজনের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ ছিল থমথমে। এক পর্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গুলি বিনিময়। রাস্তায় ফেলে পেটানো হয় তৎকালীন মেয়র আইভীকে। নেতাকর্মীরা মানবন্ধন তৈরি করে সেদিন আইভীকে প্রাণে রক্ষা করেছিলেন। হকার নেতা আসাদ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা উজ্জলের নেতৃত্বে মেয়র আইভী সেদিন প্রথম আঘাত করা হয়েছিলো।
ওই সংঘর্ষের পর ফুটপাত নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে আর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
এর মাঝে কেটে যায় ৮ বছরের অধিক সময়। হকার পরিস্থিতি আরো খারাপ আকার ধারণ করেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে নগরীকে পরিচ্ছিন্ন করতে কাজ শুরু করেন সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। সফল ভাবে হকারদের উচ্ছেদ করা করেছেন। এখন হকার উচ্ছেদের পর এই সফলতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের ব্যাপারে কেউ কেউ আপত্তি তুলতে শুরু করেছেন।
খরব পাওয়া গেছে হকার নেতারা তাদের পুনর্বাসনের দাবি অথবা নির্ধারিত নিয়মে ফুটপাতে বসতে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করবে। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েজন বাম নেতাদের সাথে তারা যোগাযোগ করছেন। ইতোমধ্যে হকারদের সংঘটিত করার জন্য কাজ করছেন কয়েকজন বাম নেতারা।
সচেতন মহলের দাবি, এর আগে পুলিশের সফল একটি উচ্ছেদ কার্যক্রমকে রাজনীতিকরণ করেছিলেন এই বাম নেতারা। তারা তাদের নেতৃত্বের খাতিরে নারায়ণগঞ্জের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের ললাটে হকার নাম দুর্ভোগ নিয়তি করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বছর পর নাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে সেই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলেছে। নতুন করে আবারো সেই পুরনো খেলা যদি কেউ খেলতে চায় তাহলে সেটা নগরবাসীকে একত্রিত হয়ে মোকাবেলা করতে হবে।


































আপনার মতামত লিখুন :