রাজনীতিতে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদন্ধীতা গড়ে তুলতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বঞ্চিত, কোণঠাসা ও নিস্ক্রিয় নেতাদের কাছে টানছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বড় দলগুলোর ক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট নেতাদের নিজেরদের দলে ভেড়াতে কাজ করছে এনসিপি। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপিতে বঞ্চিত, জাতীয় পার্টির পরিচ্ছন্ন ও জামায়াতের নিস্ক্রিয় নেতারা।
জেলা এনসিপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোনঠাসা, পদবঞ্চিত ও মূল্যায়নের বাইরে থাকা অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ রয়েছে। তারা নানান রাজনৈতিক কারনে নিজ দলেই কোনঠাসা অবস্থানে ছিলেন। এই নেতাদের কেউ কেউ এনসিপিতে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ এনসিপির সমর্থন নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন। এক্ষেত্রে এনসিপি তাদের দলীয় ইমেজ ধরে রাখার শর্তে পরিচ্ছন্ন ও সৎ নেতাদের বেছে নিচ্ছেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে ভেড়ানোর জন্য চলছে যোগাযোগ ও দর-কষাকষি।
ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ এনসিপির দুইটি কমিটিতে দেখা গেছে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত পরিবারের সদস্য, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য, মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত পরিবারের সদস্যরা প্রবেশ করেছেন এনসিপিতে। এছাড়া সাবেক বিএনপি, সাবেক জামায়াতের ব্যাপক উপস্থিতি আছে আগে থেকেই। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির এমপি জয়লাভ করার পর থেকে এই দলের জনপ্রিয়তা ও সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীরা যোগাযোগ শুরু করেছেন। এর বাইরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার পদে নির্বাচন করতেও এনসিপির সমর্থনের আশায় যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত। এদের বড় একটি অংশই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের অনেকেই দলে প্রবেশ না করেই এনসিপির সমর্থন চাইছেন। বিষয়টি এখনও বিবেচনার মধ্যেই রাখছে এনসিপি।
মহানগর এনসিপির এক নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনকে সমর্থন করেন না এমন অনেক নেতা রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ কলুষিত রাজনৈতিক পরিবেশের কারনে দূরে ছিলেন, কেউ বঞ্চিত আবার কেউ স্বজনপ্রীতি ও পরিবারতন্ত্রের কারণে বঞ্চিত। এনসিপি তাদের সুযোগ করে দিতে আগ্রহী, তবে সেক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই সৎ ও ক্লিন ইমেজের হতে হবে। কোন ভাবেই বিতর্কিতদের দলে স্থান দেয়া হবে না। এনসিপির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হয়ে কেউ অপকর্ম করলে সেই দায় এনসিপির উপর বর্তাবে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হবে এনসিপি। পরিচ্ছন রাজনৈতিক নেতাকদের জন্য এনসিপির দরজা সব সময় উন্মুক্ত।’
এদিকে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপি জোটগত ভাবে নির্বাচন করছে না এটা অনেকটাই পরিস্কার। দুটি দলই আলাদা আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একাধিক সিটি করপোরেশনে নিজেদের প্রার্থীও জানান দিয়েছে এনসিপি। নারায়ণগঞ্জে ঘোষণা না দিলেও যোগাযোগ চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর এনসিপির আহবায়ক শওকত আলীর নাম সামনে এসেছে। তবে শক্ত প্রার্থী পেলে তা পরিবর্তন হওয়াও অসম্ভব কিছু হবে না।
রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় দলের ‘বঞ্চিত’ নেতাদের দলে টানার চেষ্টা স্বাভাবিক। বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে দলের বিপরীতে বিদ্রোহী হয়ে নারায়ণগঞ্জে সুবিধা করতে পারেনি বিএনপির নেতারা। সেদিক থেকে এনসিপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে ভালো কিছু করার সুযোগ তৈরী হবে তাদের। বিএনপির সাম্প্রতিক বেশ কিছু কর্মকান্ডে ভোটব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা গেছে এনসিপির কাছেই। ফলে সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে থাকবেন অনেকেই।



































আপনার মতামত লিখুন :