নাম শহীদ, এলাকায় পরিচিত ডাকাত শহীদ হিসেবে। আওয়ামী লীগ আমল থেকেই ছিলেন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। এক সময়ে মন্ডলপাড়া এলাকার বিএনপি নেতা এম এ মজিদ ও তার ভাই হাসান আহমেদের বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ বাহিনীর হাতেই ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর কাশীপুর হোসাইনি নগর এলাকাতে পারভেজ ও মিল্টন নামের দুই যুবক খুনের ঘটনায় মামলায় এজাহারভুক্ত ছিলেন শহীদ। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির শীর্ষ নেতারা কাছে টেনে নেন শহীদকে। বেড়ে যায় বেপরোয়া। কখনো দেখা মিলে বিএনপি জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে। কখনো ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির হাতেই লালিত পালিত হচ্ছেন শহীদ। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগি বাপ্পী। তিনিও জোড়া খুনের মামলার আসামী।
শহীদ ও বাপ্পীর বিরুদ্ধে কাশিপুর, বাবুরাইল, মাসদাইর, নিতাইগঞ্জ, শহীদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। ভুক্তভোগীরা নীরবে মুক্তিপন দিয়ে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসতো। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সাহস পেত না।
শুধু অপহরণই নয়, এই অত্র অঞ্চলের পুরো মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই শহীদ বাপ্পী গ্যাং। এরা অতীতে শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমানের ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে তুলে অপরাধের রাজত্ব। ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতী তারা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিএনপি নেতা রূপ ধারণ করেছে। আর চালাচ্ছে রামরাজত্ব।
নিতাইগঞ্জে ট্রাক মালিক রাশেদকে তুলে নিয়ে টর্চার সেলে মারধরের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়েছে জেলা পুলিশ। সেই সাথে আজমেরী ওসমানের মত টর্চার সেল পরিচালনা ও অপহরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা কোন অপরাধীকে ছাড় দিব না। অপরাধীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
গত শনিবার সকাল ১১ টায় ট্রাক চালক রাশেদকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে শহিদ গ্রুপের সদস্য শুভ। এরপর দফায় দফায় মারধর করা হয়। টাকা দিতে না পারলে লিখে দিতে বলা হয় তার মালিকানাধীন থাকা ট্রাকটি। অন্যথায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে বাঁচে রাশেদ। প্রানের ভয়ে নিতাইগঞ্জ সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে না গিয়ে চিকিৎসা নেয় খানপুর হাসপাতালে।
আহত অবস্থায় রাশেদ বলেন, স্ট্যান্ডের সেক্রেটারি শহীদের লোকজন আমার থেকে তারা ২০ লাখ মুক্তিপন চাইছে। টাকা না দিলে আমি কয়েকদিন আগে যেই ট্রাক কিনছি সেটা ওদের নামে লিখে দিতে হবে। নাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে সকাল ১১ টায় অপহরণ করে নিয়েছে। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পালায়া হাসপাতালে আসছি। ওর নাকি ৫০ লাখ টাকা লাগবো। এজন্য আমার মত চারজনকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করবে।
কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত জানতে চাইলে বলেন, শহীদের অনুসারী শুভ, শাহীন, আরাফাত, ইমরান, রাজীব সহ আরও কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে। এর আগে সকাল ১০ টায় শাহীন আমাকে ফোন দিলেও আমি রিসিভ করিনাই। এরপর শুভ আমাকে ফোন দিয়ে ডেকে এনে তাদের ক্লাবে নিয়ে যায়। সেই ক্লাবের পাশে কয়েকদিন আগে মার্ডার হয়েছে। সেখানে নিয়ে আমাকে আটকে রেখে দফায় দফায় মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। টাকা না পেলে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়, এবং আমার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দেয়। পুরো নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড এখন সন্ত্রাসের রাজত্ব হয়ে উঠেছে।

































আপনার মতামত লিখুন :