বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে চারটা। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারের বেদিতে লক্ষ্যাপারের শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীত আয়োজন শুরুর আগে প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিল্পীরা। তখনও শহীদ মিনারে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও শ্রোতারা বুঝে উঠতে পারেনি কি ধরনের সংগীত পরিবেশন করা হবে এখানে।
বিকেল ৫ টায় লক্ষ্যাপারের অন্তত ২০ ক্ষুদে শিক্ষার্থী একসাথে তবলা ও হারমোনিয়ামের সাথে ‘খেয়াল’ দিয়ে তাদের সংগীত পরিবেশন শুরু করলেন।
খেয়াল থেকেই মিষ্টি কন্ঠে শোনা গেলো বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল আব্দুল করিমের ‘গ্রামের নও জোয়ান হিন্দু মুসলমান মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম/ আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।’ আধুনিক সাউন্ডবক্সে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের খেয়াল আর দেশীয় লোক সংগীতের এই সংমিশ্রণ সঙ্গে সঙ্গে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। তাল, ছন্দ ও সুরের মূর্ছনায় ডুব দিলো উপস্থিত সকলে। কিছুক্ষণ পর গান শেষ হলে সকলের একসাথে করতালি।
স্ত্রীকে নিয়ে এই আয়োজন উপভোগ করেছেন বন্দরের মুছাপুর গ্রাম থেকে শহরের চাষাঢ়ায় ঘুরতে আসা মোহাম্মদ আব্বাসউদ্দিন।
তিনি বলেন, পোলাপান দেইখ্যা তো প্রথমে উঠে গেসিলাম। বউ টানাটানি কইরা চেয়ারে বসাইসে। আব্দুল করিমের গানটা ভালোই গাইসে। আমার নানী বাড়ি ভাটির দেশে, সুনামগঞ্জ। মায়ের গলায় ছোট বেলায় এই গান অনেক শুনছি। সত্যি কথা বলতে খুবই ভালো লাগলো ভাই। এখানে সবাই আনন্দ পাইসে। আসলে সব গান খারাপ না। এমন ভালো গান হইলে কেউই মুখ ফিরাইতে পারতনা।
লক্ষ্যাপারের সমন্বয়ক শাশ্বতী পাল অনুষ্ঠান শুরুর আগে জানান, আমরা অনেক আগে থেকে নারায়ণগঞ্জে এই আয়োজন করে আসছি। আগে আরো বড় পরিসরে হতো। আজকে আমাদের এই আয়োজনের প্রথম দিন। লক্ষ্যাপারের শিক্ষার্থীরা ভালো গান করে। আমরা এই অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় সংগীতের সাথে লোক সংগীতের একটা মিল রেখেছি। এটা আশাকরি সকলে উপভোগ করেছে। শুদ্ধ সংগীত মানুষের মেধা, মনন ও শারীরিক বিকাশে সহযোগীতা করে। এছাড়া এর আরো অনেক ইতিবাচক দিক আছে। আমরা চাই এর বিস্তার ছড়িয়ে পড়ুক।





































আপনার মতামত লিখুন :