নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট কমাতে চাষাঢ়া মহিলা কলেজ থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি এসেছে। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দাবিতে এই প্রকল্পটি এখন বাস্তব পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি গত ২১ জানুয়ারি প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রুট নির্ধারণ, জায়গার প্রাপ্যতা ও বাস্তবায়নের কারিগরি দিকগুলো সরাসরি পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত ও বসবাসযোগ্য করতে হলে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। শুধু পুরনো সড়ক দিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সেই বাস্তবতা থেকেই চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ককে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমাদের প্রকৌশলী ও সার্ভেয়ারদের নিয়ে আবারও এই রোডের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আমরা চাই এই সড়কটি দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করতে। এই বাইপাস সড়ক চালু হলে শহরের কেন্দ্রীয় অংশে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং জরুরি সেবার গাড়িগুলো অনেক সহজে চলাচল করতে পারবে। যেহেতু সড়কটি রেলওয়ের জমির ওপর দিয়ে যাবে, তাই রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জেলা প্রশাসক এবং আমরা নিয়মিত সমন্বয় করছি।
নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, নারায়ণগঞ্জ আজ শুধু একটি শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর নয়, এটি লাখ লাখ মানুষের বসবাসের জায়গা। কিন্তু আমাদের সড়ক সেই চাপ নিতে পারছে না। এই বাইপাস সড়ক শুধু আরেকটি রাস্তা নয়, এটি শহরের ভেতরের চাপ কমানোর একটি বাস্তব সমাধান। এটি চালু হলে সময় বাঁচবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
তিনি আরও বলেন, হয়তো বাস্তবায়নের সময় কিছু মানুষের সাময়িক অসুবিধা হবে, কিন্তু বড় স্বার্থে তাকালে দেখা যাবে এতে পুরো শহর উপকৃত হবে। প্রশাসন যেভাবে আন্তরিকভাবে কাজ করছে, তাতে আমরা আশাবাদী। চেম্বার অফ কমার্সের পক্ষ থেকে আমরা এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পাশে আছি।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে প্রস্তাবিত সড়ক এলাকা পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রেলসেবার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত সভায় এই বাইপাস সড়ক চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মত দেন।
যেহেতু প্রস্তাবিত সড়কটি রেলওয়ের জমির ওপর দিয়ে যাবে, তাই রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাইপাস সড়কটি চালু হলে চাষাঢ়া, মহিলা কলেজ ও দুই নম্বর গেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমবে। এতে নগরবাসীর সময় বাঁচবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।









































আপনার মতামত লিখুন :