News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ফুরিয়ে যায়নি তৈমূর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম ফুরিয়ে যায়নি তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এখনও যেন ফুরিয়ে যায়নি সিনিয়র অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার যিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে বহিস্কৃত। বিএনপির রাজনীতিতে তার অনেক সমালোচকও রয়েছে।

তারপরও যেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তার অনেক গুরুত্ব রয়ে গেছে। তিনি এখনও মাঠে নামলে তার ডাকে নেতাকর্মীরা সাড়া দেন। বিনা স্বার্থেই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ছুটে চলে আসেন।

নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে গিয়ে এই কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করেন। এসময় তিনি মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

এর আগে এদিন সকালে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গাড়িযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যান। একের পর এক গাড়ি দিয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হতে থাকেন। সেই সাথে এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনসমাবেশে পরিণত হয়। সেই সাথে নেতাকর্মীদের নিয়ে তৈমূর আলম খন্দকার কবর জিয়ারতে যান।

সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। তাদেরকে নিয়ে কবর জিয়ারত করে সেখানে তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচীর সমাপ্তি করেন।

তবে এই পুরো কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে কখনও মনে হয়নি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার একজন বহিস্কৃত নেতা। বেশ ভালো জমায়েত হয়ে গিয়েছিরো তার এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি বিএনপি থেকে বহিস্কৃত। তারপরও একজন ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আনুগত্য কৃতজ্ঞতা থাকে। আমি আমি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করার জন্য। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও এখানে রয়েছেন। আমি বিএনপি এবং জনগণের সাথে আগেও ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সুস্থ ছিলেন তখন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমার তৈমূর কোথায়? তাকে কেন বহিস্কার করলা? বিএনপির চেয়ারপার্সন যদি এই কথা বলে থাকেন তাহলে আইনত আমার বহিস্কার থাকার কথা না। আমি যেখানে যে অবস্থায় থাকি আমি খালেদা জিরার প্রতি কৃতজ্ঞ। নির্বাচনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মার্কায় ভোট দিবো।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তৈমূর বলেন, আমি যাদের নিয়ে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তারা কখনও আমাকে ছেড়ে যায়নি। সমুদ্রের পানি দুইভাগ হয়ে যাবে তারপরও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আমাকে ছেড়ে যাবে না। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

জানা যায়, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার একসময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বিভিন্ন সময় বিএনপি দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেছি। সববসময় সত্যের পথে থেকে নিজের শির উচুঁ করে চলেছেন। এজন্য তাকে বহুবার মাশুল দিতে হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েও সেই পথ সরে আসতে হয়েছে।

এরই মধ্যে জেলা বিএনপির গতি ফেরাতে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এতে আহবায়ক করা হয়েছিলো অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটাতে থাকে। প্রায় প্রত্যেকটি কর্মসূচি নেতাকর্মীদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। নেতাকর্মীরা ফিরে পান মনোবল। যেন এমন নেতৃত্বের অপেক্ষাতেই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রত্যেক কর্মসূচিতেই নজরকাড়া শোডাউন চলে জেলা বিএনপির।

এদিকে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ায়ী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার মেয়র প্রার্থী হন। দল তাকে প্রথমে ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষেধ করেন। কিন্তু এই নির্দেশনা না মেনেই তৈমূর নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। সেই সাথে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্লোগান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে। তারপরেও দল এসকল বিষয় গুরুত্ব না দিয়েই নির্বাচন শেষে তৈমূরকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তবে অ্যাডভোকেট তৈমূরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে সরিয়ে দিলেও নেতাকর্মীরা তৈমূরকে ছেড়ে যায়নি। সেই সাথে তৈমূর নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেননি। নেতাকর্মীদের যে কোনো সমস্যার সমাধানে তিনি সকলের আগে এগিয়ে যান। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অসুস্থ হলে তিনি সকলের আগে সেখানে ছুটে যান। পদবঞ্চিত হওয়ার পরেও তিনি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। যার কারণে পদে না থাকলেও তিনি যেখানেই যান সেখানেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

কিন্তু অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপিতে জায়গা না পেয়ে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন। সেই সাথে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পান। আর এই তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেয়ার পরেও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

সেই সাথে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশজুড়েই বেশ আলোচনায় ছিলেন। নির্বাচনের পুরো সময়জুড়েই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই সাথে তাকে আগামী দিনে সংসদ সদস্য সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কোনো স্থানের অধিপতি হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।

বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থেকে বিভিন্ন সময় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলেছেন। তৃণমূল বিএনপির মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে বলেও তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দেন। নির্বাচনের প্রচারণাকালিন সময়ে তার একটি বক্তব্য ছিলো, আমি নির্বাচিত হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত হবে। আমি একমাত্র ব্যাক্তি যে যেকোনো স্টেজে দেশনেত্রীর মুক্তি চাই। সব দলের লোকজন আমার পাশে আছে।

এরই মধ্যে দেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয়েছে। এই ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে প্রেক্ষাপটও পরিবর্তন হয়েছে। তবে এতকিছু পরিবর্তন তৈমূরের অনুসারীরা যেন তাকে ছেড়ে যায়নি।