News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ নৌকা নির্বাচন ২ বার বহিস্কার ২বার প্রত্যাহার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ নৌকা নির্বাচন ২ বার বহিস্কার ২বার প্রত্যাহার

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে প্রচারণা অনুষ্ঠানে নৌকায় ভোট চাওয়ায় তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলমকে বহিষ্কার করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। সেই প্রত্যাহার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোয়ন জমা দেয়া দুইদিন পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারী তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এমন সংবাদে যখন সমালোচনা সৃষ্টি হয় তখনই তার ২৪ ঘণ্টা পর বহিষ্কারদেশ বহাল রাখে। তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছিল ভুলবসত মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা মার্কা চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকে ফের ২০ জানুয়ারি বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে সাধারণ সদস্য পদ ফিরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

কেন্দ্রীয় বিএনপি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারদেশ প্রত্যাহার করায় তার শিবিরে একদিকে আনন্দের উল্লাস অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি সমর্থীত জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী শিবিরে ফিরিয়েছে স্বস্তি। সেন্টু দলে ফেরায় কাসেমীর হাত শক্তিশালী হয়েছে বলে তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এমনটাই মনে করছেন।

নারায়ণগঞ্জের এই প্রথম কোন নেতা দুইবার বহিস্কার হয়েও দুই বার প্রত্যাহার আদেশ হওয়া নিয়ে রীতিমত আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে মনিরুল আলম সেন্টুকে জয়ী করতে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে আওয়ামী লীগের ঐ অংশ। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম রসুল সিকদার পান ১০ হাজার ৯৮৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনিরুল আলম ৪২ হাজার ৯০৩ ভোট পান। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল সিকদারের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিগত সময়ে দলের আন্দোলন সংগ্রামে ফতুল্লায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মনিরুল আলম। তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আসামী হয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বহিষ্কৃত এক বিএনপি নেতার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতারাও প্রশ্ন তুলছেন। এ ছাড়াও এমন ঘটনায় বিস্মিত অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না, দলটির দুর্দিন চলছে, তাই হয়তো বিএনপি থেকে সেন্টুকে এনে নৌকা তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, এতে করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগকে কে বা কারা প্রশ্নবিদ্ধ করল! সেন্টুকে নৌকা প্রতীক এনে দেওয়ার নেপথ্য কুশিলবই বা কে বা কারা? সেন্টু আওয়ামী লীগের কেউ নন। তিনি নৌকা কী করে পায়’, খোদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই নিজেও এমন প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সূত্র জানিয়েছে, মনিরুল আলম সেন্টু নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্যের  ঘনিষ্ঠ। এ ছাড়াও ওই সংসদ সদস্যের এক ঘনিষ্ট অনুসারির ব্যাবসায়িক পার্টনার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনি  এবং এই মনিরুল আলম সেন্টুকে তাদের প্রয়োজন। ফলে তিনিই এখন তাদের সুজন আর সুখে দুঃখের সাথি হিসেবে পাশে থাকেন। আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিকদার মোহাম্মদ গোলাম রসূল হয়েছেন বঞ্চিত। জীবনভর আওয়ামী লীগ করা এই নেতাকে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে চলছে দল ও দলের বাইরে তুমুল সমালোচনা।