News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২

কাসেমীর দিকে সবার অভিযোগ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১০:২১ পিএম কাসেমীর দিকে সবার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় কাসেমী অনুসারীদের ইঙ্গিত করে একযোগে ক্ষোভ ঝেড়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন নির্বাচনী পরিবেশ তৈরী করে দিতে। অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জানিয়ে দিতে, যেন প্রার্থীরা সবাই একযোগে নির্বাচন থেকে পদত্যাগ করতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সভায় এভাবেই মন্তব্য তুলে ধরেন অধিকাংশ হেভিওয়েট প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ইসমাঈল সিরাজী।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন অফিসার, র‍্যাব সিও, সেনাবাহিনীর মেজরের সামনে প্রায় অধিকাংশ প্রার্থী একই অভিযোগ করেন। আর তা হচ্ছে নির্বাচনী পরিবেশ। প্রত্যেকেই অনুরোধ করেছেন নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য। প্রত্যাশা করেছেন নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট প্রয়োগ করতে পারে।

সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী বলেন, , “সুষ্ঠ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন, সেটা আপনাদের (প্রশাসন) করতে হবে। জোর করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে যদি কাউকে কিছু বলা হয়, তাহলে কি সুষ্ঠ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে? আপনারা যদি সুষ্ঠ নির্বাচন রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আমরা একযোগে পদত্যাগ করে চলে যাবো। আমরা সবাই সুষ্ঠ নির্বাচন চাই। কিছু লোক বাড়ি থেকে ডেকে এনে মানুষকে ধমকাচ্ছে। ভোট দিতে গিয়ে যদি কেউ বাধার মুখে পড়ে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে আপনারা কী করবেন, সেটা আপনারাই ভালো বোঝেন।

সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন ভাবে কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ। এই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও আন্তরিক হতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন,  বাকি প্রার্থীদের মত আমারও একই অভিজ্ঞতা। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ভোট দিলে জয়লাভ করবো, না দিলে করবো না। কিন্তু আমরা ফেয়ার ইলেকশন চাই। যদি না হয়, তাহলে আমরা একযোগে পদত্যাগ করবো। এর বেশী কিছু বলবো না, চাইবো আপনারা সঠিক দায়িত্বটা পালন করবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, ‘আমরা গত ১৫/১৬ বছর মজলুম ছিলাম। আমাদের যদি ফের মজলুমের কাতারে ফেলা হয় তাহলে আমরা মজলুমরা একত্রিত হয়ে এর জবাব দিব। আমরা চাই প্রশাসন দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ উপহার দিবেন।’

প্রত্যেকেই তাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন মনির কাসেমীর অনুসারীদের দিকে। পুরো সময় জুড়ে চুপ করে ছিলেন মনির কাসেমী ও তার অনুসারীরা। মাঝে একবার বেরিয়ে গেলেও পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখার সময় চলে আসেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও অবগত ছিলেন কাসেমী ও তার অনুসারীদের ব্যাপারে। প্রশাসনের বক্তব্যেও শোনা যায় কঠোর থাকার বার্তা।