নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনের মাঠে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন একাধিক এমপি প্রার্থী। উপজেলা পরিষদে প্রশাসনের সামনে একে একে পাঁচ প্রার্থী হুমকি ধামকি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ভোটের মাঠে ধারাবাহিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে একাট্টা হয়েছেন প্রার্থীরা। তারা চাইছেন, ভোট হোক সুষ্ঠু। প্রভাব ও হুমকি মুক্ত।
বুধবার ফতুল্লার এনায়েতনগরে একযোগে গণসংযোগ করতে গিয়ে সাক্ষাৎ হয় এনসিপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমের। দুজন কুশল বিনিময় করেন। এসময় আল আমিন বলেন, আমাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকবে। কিন্তু আমরা হাসিনা মার্কা নির্বাচন চাইনা। জনগন যাকে ভোট দিবে তার পক্ষে কাজ করবো। কিন্তু কেউ যদি সন্ত্রাসী মুভ করাতেই চায়, তাইলে আমরা তার সমুচিত জবাব দিব।
একই সময়ে শাহ আলমের সাথে থাকা বিএনপি নেতা রোজেল বলেন, কোন সন্ত্রাসীকে আমরা প্রশ্রয় দিব না। কোন সন্ত্রাসী হুমকি ধামকি দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা একসাথে কাজ করে যাব।’
অন্য এক বৈঠকে শাহ আলম বলেন, আমাকে একটি বার এমপি করে দেখেন আমি ফতুল্লাবাসীর জন্য কি করি দেখেন। নির্বাচিত হলে এলাকার চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করবো। আমি কোন অন্যায়কে আশ্রয় প্রশ্রয় দিব না।
তবে শুধু এই দুই প্রার্থীই নন। একই সুরে কথা বলেছেন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। তিনি একাধিক বৈঠকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ এলাকার সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। মানুষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের চেহারা চিনে। যেই মাওলানা সাবের সঙ্গে থাকে, তার চরিত্রও বোঝা যায়। এ ধরনের প্রার্থীরা জনগণের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ। এদের কারনে এই অঞ্চল অনুন্নত হয়ে আছে বছরের পর বছর। কোনভাবেই নিস্তার পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। জুলাই অভ্যুত্থানে শামীম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করলেও তাদের আর্শীবাদপুষ্ঠ ও খোলস বদলানো ব্যক্তিরা এখনও রয়ে গেছে। তারাই ছড়ি ঘুরাচ্ছে এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানা দখল করে জিম্মি করে রেখেছে ব্যবসায়ীদের।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে প্রার্থীদের জয় পরাজয়ের উপর নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভাগ্য। ভোটাররা বলছেন, যোগ্য ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ব্যক্তি যদি বিজয়ী হয় তাহলে এই অঞ্চলের দুর্দশা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। আর সেই জন্যেই সকলেই একযোগে সন্ত্রাসের বিপক্ষে কথা বলছেন। তবে যারা মুখে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, কিন্ত পাশে বসিয়ে রাখেন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে। তারা স্বাভাবিক ভাবেই বয়কট হবেন ভোটারদের কাছ থেকে।


































আপনার মতামত লিখুন :