নারায়ণগঞ্জে এনসিপির কাছে ক্রমশ আত্মসমর্পন করছে বিএনপির ফতুল্লা থানা কমিটির নেতারা। শীর্ষ নেতাদের দুর্বলতায় হাট, ঘাটের তিনটি টেন্ডারে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা দাবী করেছেন, তারা কোন সংঘাত চাচ্ছে না এবং এমপিকেও বিরাগভাজন করতে চায় না। এমপি খুশী রাখতেই এনসিপিকে তুষ্ট রাখতে ছাড় দিচ্ছে।
সবশেষ ফতুল্লার ১৩টি পশুর হাট নিয়েও নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতারা। সে কারণেই এবার ইজারার দিকে সকলে নজর ছিল। কিন্তু ১৯ মে ইজারার দরপত্র দাখিলের দিন কোন ধরনের সংঘাত ঘটেনি।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, ১৩টি হাটের বিপরীতে এনসিপি নেতারাও দরপত্র ক্রয় করেন। কিন্তু ১৮ মে দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় দেন দরবার। বিএনপির নেতারা ১৩ হাটের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। তারা গরুর বেপারীদের কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেছে আগে থেকেই। এ কারণেই তাদের হাট না নিলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বিষয়টি নিয়ে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা এনসিপির নেতাদের এ বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হন যে বিএনপি হাট না নিলে এনসিপি নিলেও তারা চালাতে পারবে না। পরে ১০টি হাট নিয়ে তাদের মধ্যে সমঝোতা ঘটে। ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত এনসিপি নেতাদের দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই ১৯ মে কোন ধরনের ঝামেলা হয়নি।
তবে এটাই প্রথম না এর আগেও ফতুল্লার বিভিন্ন হাট ঘাটের টেন্ডারে অংশ নিয়ে বড় অংকের টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠে। ফতুল্লা ডিআইটি মাঠের হাটের দরপত্র কেনার পরেও শেষ সময়ে ১০ শতাংশ কমিশনে রফাদফা ঘটে। আর সেই রফাদফায় এনসিপির নেতারা দরপত্র ক্রয় করলেও আর জমা দেয়নি। ফলে কোন ধরনের আওয়াজ ছাড়াই মাঠের দরপত্র সম্পন্ন হয়। চুপিসারে বিএনপি নেতা ইজারা পেয়ে যান।
২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়া বক্তাবলীর রাজাপুর খেয়াঘাটের দরপত্র নিয়ে সমঝোতা না হওয়াতে বিএনপির পাশাপাশি এনসিপি, জামায়াত নেতারা দরপত্র জমা দিতে গেলে মারামারির ঘটনা ঘটে।
রোজার ঈদের আগে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ সহ বিভিন্ন সেক্টরে ইজারা সম্পন্ন হয়। ইজারার আগে ফতুল্লা মাঠের নজর ছিল এনসিপি নেতাদের। তরিকুল নামের এনসিপি নেতা দরপত্র ক্রয় করেন। তিনি আবার বক্তাবলী খেয়াঘাটের দরপত্রও কিনেছিলেন। ডিআইটি মাঠের দরপত্র ক্রয়ের পর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের তিন দফায় বৈঠক হয়। শুরুতে এনসিপি নেতা তরিকুল বিএনপি নেতাদের কাছে ৩০ ভাগ কমিশন চায়। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০ ভাগে নেমে আসে। তখন এনসিপির সঙ্গে জামায়াতও যুক্ত হয়। এ নিয়ে রাতভর জল্পনা শেষে দরপত্র দাখিলের দিন সকাল ১১টায় এক বৈঠকে এনসিপি ১০ ভাগে রাজী হয়। তখন এনসিপি নেতারা একজন জনপ্রতিনিধির নামেও কমিশন চেয়েছিল। শেষতক সমঝোতায় জামায়াত ও এনসিপি নেতারা দরপত্র দাখিল করেনি। সে কারণে বিএনপি নেতা পেয়ে যান মাঠের ইজারা।
বক্তাবলী ঘাট নিয়েও একই পন্থায় আলোচনা শুরু হয় তিন চারদিন ধরে। এতে বক্তাবলীর বিতর্কিত রশিদ মেম্বার সহ আরো কয়েকজন সমঝোতায় রাজী না হলেও থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।




































আপনার মতামত লিখুন :