আগামী স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্য থাকার সম্ভাবনা নেই। এই ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক আলাদা আলাদাভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ১১ দলীয় ঐক্যে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। ইতোমধ্যে তাদের আলাদা আলাদা প্রার্থীর আলোচনা শুনা যাচ্ছে।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনভিত্তিক সমঝোতা ও ইসলামপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের আত্মপ্রকাশ করে। গেন সাথে জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে একক ও সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ভাগ করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের-৫ আসনেও সমাঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। সেই সাথে তারা বেশ ভালো করেছে এই নির্বাচনে।
এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোড়ালো প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জানান দিয়ে আসছেন। তারা একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে জনসাধারণের মাঝে হাজির হচ্ছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।
আর এই সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো চাচ্ছেন নিজেদেরকে শক্তি সামর্থ্যরে জানান দিতে। যার কারণে সকলেই চাচ্ছেন নিজেদের প্রার্থীকে মাঠে রাখতে। বিশেষ করে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই সিটি কর্পোরেশনের নিজেদের প্রার্থী রাখতে। ফলে এ নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফাঁটল ধরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী চাচ্ছেন মেয়র পদে তাদের প্রার্থী রাখার জন্য। সেই সাথে তারা সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তবে ১১ দলীয় ঐক্যের স্বার্থে কাউন্সিলর পদে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাড় দিলেও মেয়র পদে ছাড় দিতে রাজী নয়।
বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসকে সুযোগ দিয়েছেন। তারা নিজ দলের প্রার্থী না দিয়ে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। আর এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে যে কোনোভাবেই নিজেদের প্রার্থীকে মাঠে রাখতে চাচ্ছে।
কিন্তু খেলাফত মজলিস আবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ করে মেয়র পদটি ছাড়তে চাচ্ছেন। তারা তাদের প্রার্থীকেই মাঠে রাখতে চাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তারা কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণারও প্রস্ত নিতে শুরু করেছেন।
যার কারণে নির্বাচনের আগে থেকেই ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা অন্যতম প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে মতভেদ শুরু হয়ে গেছে। যদিও নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়ের আগ পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে পারিপাশির্^ক অবস্থা বলে অন্তত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ঐক্য থাকার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের নিজেদের শক্তির জানান দিতে চাচ্ছেন।
তবে স্থানীয় নির্বাচন তথা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে পারলে ভোটের ফলাফলে ভালো করবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর যদি ঐক্য ধরে রাখতে না পারেন তাহলে প্রতিপক্ষের জন্য খুবই সহজ বিজয় হয়ে যাবে।
জান যায়, ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর নারায়ণগঞ্জে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সবশেষ ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এ দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ে দলের অনেক নেতা। নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয় দলটি।
তবে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বিতর্ক খুবই কম। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলানের নেতাদের নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। যার ফলস্বরূপ নির্বাচনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর সাথে থাকা দলগুলো ভালো সফলতা দেখিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় নির্বানচনগুলোতে সফলতাকে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন। সে লক্ষ্যে তারা তৃণমূল পর্যায়ে অবিরাম কাজ চালিয়ে আসছেন। প্রচার-প্রচারণার বাইরে থেকেই স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে পড়ছেন।
এছাড়া এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসার কারণে বিএনপিতে প্রতিদ্ব›দ্বীতার সংখ্যা অনেক বেশি বেড়েছে। একই সাথে তারা বর্তমানে ক্ষমতায় স্বাভাবিকভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের একক প্রার্থী থাকলে ভোটের ফলাফলে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



































আপনার মতামত লিখুন :