News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফতুল্লার বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম ফতুল্লার বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ছয় মাস পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গত ১৩ মে ভোরে আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি শান্ত হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতভর অভিযান চালিয়ে আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভ (২৫)কে ফতুল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত শান্ত হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে রিমান্ডে নেওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে আহাদ আলীও আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। একই এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট তার কাছ থেকে ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিনি আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডাকেন।

সেদিন রাত সাড়ে ১০টায় আতিকুল তার বন্ধু মাসুম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে মাসুম সাময়িকভাবে সেখান থেকে সরে গেলে আতিকুল নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ১১ নভেম্বর সকালে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আলী সম্রাট প্রথমে আতিকুলকে ধার নেওয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ওই টাকা ও আতিকুলের কাছে থাকা আরও অর্থ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।

পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত আরও আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।