নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চাঁদমারীতে স্যাটেলাইট কেবল ব্যবসায়ী নাসির হত্যার পেছনে দুটি কারণ মনে করছেন পরিবার। প্রথমত ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব। দ্বিতীয়ত মাদক ব্যবসা। পরিবার বলছে, এ দুটি কারণেই নাসিরকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় মাউড়াপট্টিস্থ ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে নাসিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মার যান।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সজিব, শান্ত, আরিফ ও নাঈম সহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্থানীয় মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের চারদিকে দীর্ঘ বছর ধরে মাদকের হাট পরিচালনা করেছেন রুমী আক্তারের নেতৃত্ব তার স্বামী লেবু মিয়া, বাবা মুক্কা ও ছোট ভাই ফজল সহ একদল মাদক ব্যবসায়ী। চাঁদমারী সবুজবাগ এলাকা রুমীর বসবাস থাকলেও মাউরাপট্টি, মাইক্রোস্ট্যান্ড ও এসপি অফিসের সামনে মাদক বিক্রি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এই নিয়ে টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর একাধিক অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসা পর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে রুমীর নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নাসির হোসেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে এলাকায় বিক্রি না করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং নিজেই রুমীকে এমনকান্ডে নিষেধ করে ছিলেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তে পরিবর্তনে নাসিরকে ম্যানেজ করার জন্য শরিফকে দায়িত্ব দেন রুমী। রুমী মাদক পরিচালনা থেকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা নাসিরকে দেয়ার প্রস্তাব করেন শরিফ। এতে রুমী মাদক স্পট বন্ধ ও এসব থেকে সরে যেতে শরীফ পরামর্শ দেন নাসির। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার অফিসে ফাঁকা পেয়ে দরজা বন্ধ করে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী সায়মা বেগম জানান, চাঁদমারী ডিস ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে পার্টনার আব্দুস সাত্তার বাবু’র সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধ ছিল। ধারণা করছেন সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহতের স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ফ্রেন্ডস ক্যাবল নেটওয়ার্কস নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন আসামি আব্দুস সাত্তার বাবু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিহত নাছিরকে ব্যবসার কোনো হিসাব দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাত্তার বাবু নিহত নাছিরের ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসাটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এছাড়া মামলায় বলা হয়, আসামি শরিফ, রুমি সহ অন্যান্য কয়েকজন এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। নিহত নাছিরের কারণে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছিল না। কয়েক মাস আগে ডিশ ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আব্দুস সাত্তার বাবুর সঙ্গে নিহত নাছিরের বাকবিত-া হয়। তখন সাত্তার বাবু ও তার ছেলে আবির নাছিরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিশ ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনায় বাধার জেরে সাত্তার বাবু, শরিফসহ অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে একত্রিত হয়ে হত্যাকা- সংঘটিত করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :