News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশে উৎপাদিত পণ্যের মানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর তাগিদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম দেশে উৎপাদিত পণ্যের মানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর তাগিদ

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ সভাপতি মো. আবু জাফর বলেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত একমাত্র জাতীয় মান প্রণয়নকারী সংস্থা। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিএসটিআই পণ্যের জাতীয় মান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহ ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধ এবং সঠিকতা নিরূপণে কাজ করে আসছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিশন (বিএসটিআই) নারায়ণঞ্জের উদ্যোগে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

মো. আবু জাফর বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও পরিমাপে প্রণীত মান অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির মান নির্ধারণ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতকরণে বিএসটিআই বাংলাদেশের জাতীয় মান সংস্থা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং সঠিক জননীতি প্রণয়নের মূল ভিত্তি হলো নির্ভুল তথ্য। আর এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা আসে সঠিক পরিমাপ বা মেট্রোলজির মাধ্যমে। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ রক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীতিনির্ধারকদের এমন সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয় যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এবং সঠিক পরিমাপে সমর্থিত।

তিনি বলেন, যখন কোনো রাষ্ট্র নতুন আইন বা নীতিমালা তৈরি করে, তখন সেই নীতির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে। সঠিক ও আন্তর্জাতিক মানের পরিমাপ পদ্ধতি যখন এই নীতিমালাগুলোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, তখন তা জনগণের মাঝে গভীর আস্থা তৈরি করে।

আবু জাফর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের মানের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিমাপে সঠিকতা না থাকলে রপ্তানিখাত ব্যাহত হবে। তাই বিএসটিআইকে পণ্যের আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে দেশিয় মান প্রণয়ন করতে হবে এবং ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা নিশ্চিতকল্পে নিরলসভাবে কাজ করে টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করতে হবে।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে থেকে ওজন ও পরিমাপে মেট্রিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মেট্রিক পদ্ধতি অনুসরণের ফলে বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান কারিগরি বাধাসমূহ দূর করা সম্ভব হয়েছে। বিএসটিআই'র মেট্রোলজি উইং দেশে মেট্রিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য আইন অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। সঠিক ওজন ও পরিমাপের পণ্য উৎপাদিত ও সরবরাহ না থাকলে ভোক্তাসাধারণ বঞ্চিত হবেন।

অন্যদিকে ভোক্তাসাধারণকেও সঠিক ওজন ও পরিমাপের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে শিল্পপতি, শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী বন্ধুদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা সঠিক ওজন ও পরিমাপের পণ্য উৎপাদন ও বিপণন নিশ্চিত করবেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করবেন। পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে এ জাতীয় পণ্য উৎপাদন পরিহার করে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।