News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

‘হারুন ইয়াবা সেবনকারী’ এমন বক্তব্য আমি দেই নাই : ফেরদাউস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম ‘হারুন ইয়াবা সেবনকারী’ এমন বক্তব্য আমি দেই নাই : ফেরদাউস

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদ্রাসার বহুল আলোচিত সমালোচিত হারুন অর রশিদকে নিয়ে একটি পত্রিকায় সংবাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন হেফাজত ও জমিয়ত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।

তিনি বলেন, আমি কখনই এ ধরনের বক্তব্য দেই নাই। কোথাও এ ধরনের প্রমাণ নাই। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

প্রসঙ্গত ওই সংবাদে বলা হয়েছে, হারুনের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগেও ইয়াবা সেবনের অভিযোগ তুলেছিলেন শামীম ওসমান ও তার ক্যাডার বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিতর্কিত ফেরদাউসুর রহমান। আওয়ামী লীগ আমলে নৌকার নির্বাচন করে এখন বিএনপির বিতর্কিত নেতাদের সঙ্গ দেওয়া এ নেতার বিরুদ্ধে গত সংসদ নির্বাচনে জোট প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে পরাজয় করার অভিযোগও রয়েছে। এ হারুনের অভিযোগ ছিল ফেরদাউসুর সকল তথ্যা আদান প্রদান করতো। জমিয়ত ও হেফাজত অঙ্গনে ফেরদাউস মীরজাফর হিসেবেও পরিচিত।

তবে সম্প্রতি এ দুইজনের ফের মিল হয়েছে। এ দুইজন মামা ভাগ্নে মিলে দেওভোগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু তাহের জিহাদীর মত বুজুর্গ আলেমকে সরাতে গিয়ে বিএনপি নেতাদের পেশিশক্তি ব্যবহার করেছে। এটা নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটেছে। হারুন ও ফেরদাউসদের দাবী মাওলানা জিহাদী জামায়াত ঘরনার। অথচ আওয়ামী লীগ আমলে এ মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

সম্প্রতি হারুনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে। খোদ ফেরদাউস অভিযোগ করেছিলের হারুন ইয়াবাসেবনকারী। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর পরেই হারুনকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ নিয়ে দেখা দেয় উত্তেজনা। পরবর্তীতের হারুন ও ফেরদাউস অতীত ভুলে একসঙ্গে হয়ে মাদ্রাসায় আঘাত করারর পরিকল্পনা করে। সেটার অংশ হিসেবেই ৫ জুলাই আগে দলবল পাঠিয়ে মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায়। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্তেজনার মুখে অধ্যক্ষ (মুহতামিম) আবু তাহের জিহাদীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এর আগে শিক্ষক মুফতি হারুন অর রশিদকে তার সপর্দে পুনরায় বহাল করা হয়েছে।

বিকেলে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ খোকন তাৎক্ষনিক মাদ্রাসার অফিসিয়াল প্যাডে স্বাক্ষর করে আবু তাহের জিহাদীকে অব্যাহতি দেবার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। মাদ্রাসার সুনাম রক্ষার্থে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও তার অনুসারিরা শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সেই সাথে তাদের অনুসারীদের সাথেও মাওলানা ফেরদাউসের ভালো সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন সময় ওসমানদের স্বার্থ আদায়ে মাওলানা ফেরদাউস হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেন।

একই সাথে বিভিন্ন সময় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও ফেরদাউস থাকতো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান মহানগর হেফাজত ইসলামকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় কেউ কিছু বলতো না।

অপরদিকে মাওলানা হারুন অর রশিদ ও ফেরদাউসুর রহমানের সম্পর্ক প্রায় ২০ বছর। একে অপরকে মামা ভাগ্নে সম্বোধন করতেন। একে অন্যের অনেক ঘটনার সাক্ষী। মাঝে সম্পর্কের অবনতির কারণে এবার ফেরদাউসুরের অনেক গোপন খবর ফাঁস করেন এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হারুন। তাঁর ফাঁস হওয়া তথ্য অনেক ভয়ঙ্কর। একজন আলেম হয়ে ফেরদাউস কিভাবে আওয়ামী লীগ প্রীতি, র‌্যাবের এক কারাবন্দী কর্মকর্তার সোর্স হিসেবে শতাধিক আলেমকে গ্রেপ্তার করানো সহ উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে সেটায় পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি হারুনকে দেওভোগ মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুতের ঘটনায় ফেরদাউস ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। শেষতক যখন হারুন আর কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না তখন ফেরদাউসুরের শরানাপন্ন হন। ফেরদাউসের কাছে ক্ষমা চান হারুন। এর পর রোববার হারুনের পক্ষে মাঠে নামেন ফেরদাউস।

হারুন অর রশিদ বলেন, ফেরদাউসুর রহমানের সাথে তার ২০ বছরের অধিক সময় ধরে সম্পর্ক। বিগত দিনে সংগঠনের স্বার্থে অনেক কিছুই বলা হয়নি। কিন্তু এখন বিবেক ও মনুষ্যতের জন্য অনেক কিছু জানানো প্রয়োজন। হারুন বলেন, ‘র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা আলেপউদ্দিন (ধর্ষণ সহ নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী) এর সাথে ফেরদাউসুরের ভালো সম্পর্ক ছিল। তখন আলেপের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন ফেরদাউস। আমি কাছে থেকে দেখেছি ২০২১ সালে এ আলেপকে তথ্য দিয়ে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে গ্রেপ্তার করানো হয়। ওই সময়ে আলেপের কাছ থেকে সুবিধা নেয় ফেরদাউসুর। আমি তখন ঘটনার সাক্ষী ছিলাম। বার বার ফেরদাউসকে এসব বিষয়ে সতর্ক করলেও তিনি মানেনি। শুধু মনির হোসাইন কাসেমী না বরং নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার শতাধিক আলেম ওলামাকে গ্রেপ্তারের পেছনে ফেরদাউসুরের হাত ধরেছে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মনির হোসাইন কাশেমী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু তখন শামীম ওসমানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পোলিং এজেন্টের তালিকা বিক্রি করে দেয় ফেরদাউসুর। নিয়মিত শামীম ওসমানের জামতলার বাসায় গিয়ে তথ্য আদান প্রদান করতেন। ফেরদাউস আমাদের ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোনাফেকগিরি করেছেন। তিনি উপরে জোট প্রার্থী ও আমাদের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষ নিলেও প্রতিদিন রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম, গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করতেন। এদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা এনেছেন। এক বৈঠকে রোজেল ও রানাসসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে ফেরদাউস শপথ করিয়েছেন কোনভাবেই যেন মনির কাসেমীকে জয়ী না করানো হয়। কারণ আমি যে মনির কাসেমীকে ২০২১ সালে গ্রেপ্তার করিয়েছি এটা সে জানে। তিনি জয়ী হলে আমাকে জেলে ভরবে।