যাঁর ক্যামেরার লেন্স একসময় কথা বলত শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে, যাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় ফ্রেমে ফ্রেমে বন্দি হতো সমাজের আনন্দ-বেদনা আর ইতিহাসের সোনালী মুহূর্ত বন্দর প্রেসক্লাবের সদস্য প্রবীণ ফটোসাংবাদিক আমির হোসেন নিজেই এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি।
টাইফয়েডসহ শরীরের নানা জটিল উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে বিগত ২৪ দিন ধরে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় শয্যাশায়ী এই গুণী আলোকচিত্রী।
চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন প্রহর গুনছে অলৌকিক কোনো সহায়তার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই সংবাদকর্মীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কেবল টাইফয়েড জ্বরই নয়, বার্ধক্য ও নানাবিধ জটিল রোগ একযোগে জেঁকে বসেছে তাঁর শরীরে।
চিকিৎসকদের মতে, তাঁর বর্তমান শারীরিক উপসর্গগুলো অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও কষ্টদায়ক। টাইফয়েডের তীব্র প্রভাবে তাঁর দাঁত পড়ে গেছে, নাকে মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শ্রবণশক্তি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। তীব্র দৃষ্টিহীনতার কারণে চোখের সামনে থাকা চেনা মানুষকেও আজ আর চিনে নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি।
এছাড়া ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের কারণে তীব্র মূত্রকষ্ট, বক্ষব্যাধি ও ফুসফুসে কফ জমে থাকা, পেটে চর্বি আধিক্য এবং দুই পায়ের হাঁটুতে হাড়ের ক্ষয়জনিত তীব্র ব্যথায় তিনি সার্বক্ষণিক শয্যাশায়ী। যিনি মানুষের অধিকারের ছবি আঁকতেন, আজ তিনি নিজেই অসহায়।
সাংবাদিক আমির হোসেনের শয্যাপাশে দিনরাত কাটানো তাঁর সহধর্মিণী অশ্রুসিক্ত চোখে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমার স্বামীর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধের খরচ মেটাতে গিয়ে আমাদের সমস্ত সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে গেছে। সহকর্মীরা এসে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু এই মরণব্যাধির ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। যিনি সারাজীবন মানুষের অধিকারের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, আজ তিনি নিজেই নিয়তির পরিহাসে নিঃস্ব। দেশবাসীর কাছে আমি তাঁর জীবনের ভিক্ষা চাই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে, অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে প্রবীণ এই কলম সৈনিক বলেন, সারাজীবন কত মানুষের ছবি তুললাম, কত মানুষের দুঃখের কথা নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছালাম। আজ আমি নিজেই এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। অর্থের অভাবে আজ আমার চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম। আমি সমাজের মানবিক ব্যক্তিবর্গ এবং আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয়ের কাছে করজোড়ে নিবেদন করছি আমাকে বাঁচতে সাহায্য করুন। আমি আবারও সুস্থ নিজের কর্মে ফিরতে চাই।
সহকর্মী ফটো সাংবাদিক রিপন বলেন, আমির ভাই অনেক অসুস্থ। তার সঠিকভাবে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। অথচ এই আমির ভাইয়ের ক্যামেরায় একসময় ছবি উঠতো অনেক নামী দামী ব্যাক্তিদের। আজ তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। কেউ পাশে নেই। মানুষ প্রয়োজন ফুরালে কাউকে মনে রাখেনা।
বর্তমানে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার আলাউল কবির দিপুর নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে।
কর্তব্যরত এই চিকিৎসক জানান, রোগীর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শরীরে একাধিক জটিল রোগ একসঙ্গে বাসা বাধায় এখানে সীমিত পরিসরে তাঁর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ্য করতে অতি দ্রুত কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা না গেলে রোগীর অবস্থা যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।







































আপনার মতামত লিখুন :