News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হত্যা ও মামলায় উত্তপ্ত মাসদাইর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম হত্যা ও মামলায় উত্তপ্ত মাসদাইর

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মো. সিজান (২৫) নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মামলার পর ৬ জুলাই রাতে এলাকাবাসী মিছিল করেছে। সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের অভিযোগ নিহতের ভাই কয়েকজনকে মারধরও করেছে।

মামলায় শহরের পশ্চিম মাসদাইর আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম, আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংগঠনের সহসভাপতি ও খেলাফত মজলিসের সদর শাখার সাবেক সহসভাপতি কাউসার আহমেদ কাসেমী (৪০), সাংগঠনিক সম্পাদক ও খেলাফত মজলিস জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি (৫০), সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকিরসহ (৫৫) ছয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৫ জনকে।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ৪ জুলাই তাঁর ছেলে সিজানকে মামলার আসামিরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পশ্চিম মাসদাইর আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের সামনে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে আসামিরা তাঁর ছেলে সিজান ও জনৈক অনিককে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। খবর পেয়ে তাঁরা ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাঁদের সামনেও এলোপাতাড়ি মারধর করে অচেতন করে ফেলে। সিজান অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মামলার আসামিরা ওই এলাকার বাসিন্দা। তারা আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংগঠনের সদস্য। সংগঠনটি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত।

ওই সংগঠনের সদস্যদের সিজান ও অনিককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে কাওসার আহমেদ ও জিলানী ফকির দাবি করেন, সিজানকে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের কাছে ধরে নিয়ে আসে। এ সময় সিজানকে তাঁরা পরিবারের জিম্মায় দেন। তাঁরা মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদেরকে ধরে নিয়ে মারধর করে। তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের সহসভাপতি ও মসজিদের ইমাম কাউসার আহমেদ কাসেমী বলেন, ‘আমার এলাকাটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। এখানে পুলিশ এসেও হামলার শিকার হয়েছে। ছিনতাই, মাদকসহ নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে গত রোজার আগে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা হিসেবে সমন্বয় করে অপরাধ নির্মূলে কাজ করে আসছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, অন্যায় কারণে কেউ হয়রানি হলে আর কেউ ভালো কাজে এগিয়ে আসবে না।