News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

মাওলানাদের অধঃপতন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম মাওলানাদের অধঃপতন

শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় সারাদেশজুড়েই আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি হলেন জাকির খান। যিনি রাজনীতির জীবনের শুরু থেকেই বিতর্কিত হয়ে আসছেন। আর তাকেই কিনা নারায়ণগঞ্জের আলেম উলামাদের একটি অংশ অভিভাবক হিসেবে মেনে নিয়েছেন। একটি মাদ্রাসায় নিজেদের কর্তৃত্ব নেয়ার জন্য জাকির খানের আশ্রয় নিয়েছেন। জাকির খানকে অভিভাবক মেনে মাদ্রাসায় প্রবেশ করেছেন যা আলেম সমাজকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

জাকির খানের সাথে নারায়ণগঞ্জের আলেম উলামাদের একটি অংশের সম্পর্কের বিষয়টি আসার পর থেকেই সর্বমহলেই সমালোচনার ঝড় বইছে। আলেম উলামাদের একটি বিশাল অংশ এই বিষয়টিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে অনেক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক বড় আলেম উলামা থাকতেও কেন জাকির খানকে সাথে নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে তা আলেম সমাজকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কেউ কেউ এই বিষয়টি নিয়ে মাওলানাদের অধঃপতন হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন লিখেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী উপস্থিত থাকা সত্বেও সমস্যার সমাধানের জন্য মাইক তুলে দেয়া হলো জাকির খানের মতো একজন নেতার হাতে। যার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, চালচলন, অতীতের নেতিবাচক কর্মকা- সবমিলিয়ে একটা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে মানানসই নয়। বিষয়টা সুন্দর হতো যদি তিনি অন্তত ঢাকা থেকে কোনো বয়োবৃদ্ধ গ্রহণযোগ্য উলামায়ে কেরামদেরকে দিয়ে সমাধানে যেতেন। অথবা, স্থানীয় সংসদ সদস্য অথবা তাঁর সমমনা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বিষয়টা সুরাহা করতে পারতেন।

একইভাবে আরেকজন লিখেন, বিএনপির জাকির খানকে কওমিদের অভিভাবক ঘোষণা জমিয়ত নেতা ফেরদৌসের- কওমি আলেমদের কি পরিমাণ অধঃপতন হলে জাকির খানের মত লোককে তাদের অভিভাবক ঘোষণা করতে পারে! আগে হাসিনাকে তাদের জননী ঘোষণা করেছিল আর এখন জাকির খান নাকি তাদের নতুন অভিভাবক ঘোষণা করলো।

এর আগে গত রোববার নারায়ণগঞ্জ দেওভোগে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক হেফাজত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কা- ঘটেছে। ৫ জুলাই রবিবার দুপুর ১২টা হতে সন্ধ্যা ৬টা অবধি ওই আন্দোলনের সময়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা মসজিদ কমিটির সভাপতি হেদায়েতুল্লাহসহ মোহাম্মদ মানিক, সাজ্জাদ দেওয়ান ও কমিটির অন্যান্য সদস্যকে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

সংবাদ পেয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী তাদের উদ্ধারের উদ্দেশ্যে মদ্রাসার প্রধান ফটক ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় মাদ্রাসার অভ্যন্তরে অবস্থানরত আনুমানিক কয়েক হাজার ছাত্র এবং বাইরে অবস্থানরত প্রায় ৬ শতাধিক মুসল্লি “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার” স্লোগান দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। সেই সাথে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির সমাধান না হওয়ার এক পর্যায়ে জাকির খানের গাড়িতে চড়ে আসতে দেখা যায় বহুল বিতর্কিত হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে।

ফেরদাউসুর রহমান পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য জাকির খানকে নিয়ে এলাকায় হাজির হন। সেই সাথে জাকির খান উপস্থিতির উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন। যেখানে অনেক আলেম উলামারাও উাপস্থিত ছিলেন। সবশেষ আলোচনয় প্রাথমিকভাবে তিন দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সেই সাথে এ বিষেয়ে মহানগর বিএনপির নেতা জাকির খান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে জানা যায়। সবমিলিয়ে জাকির খানের একজন সমালোচিত নেতার কাছে যেন তারা যেন মাথা নত করেছেন।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই ফেরাদউসুর রহমানকে নিয়ে হেফাজত ইসলামের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভের সূত্র ধরেই তাকে মহানগর হেফাজতের একক নেতৃত্বে চাননি একটি অংশ। কিন্তু সেই নেতৃত্ব নেয়ার জন্য ফেরদাউসুর রহমান ও তার অনুসারীরা লঙ্কাকান্ড ঘটনাও ঘটিয়েছিলেন। সেদিন আলেম উলামারাই সাধারণ জনগণকে অবাক করে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন।  

২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের মিছিলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এদিন জুমআর নামাজের পর শহরের ডিআইটি কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। প্রায় মিনিট দশেক ধরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হৈ চৈ ও হাতাহাতি চলে। পরে সিনিয়ররা নেতারা বার বার অনুরোধ করলে থামে। তবে পণ্ড হয়ে যায় পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল। পরবর্তীতে অপর একটি গ্রুপ মিছিল করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

যার মধ্য দিয়ে হেফাজতের কর্তৃত্ব নেয়ার জন্য নিজেদের মধ্যেই কোন্দলে জড়িয়েছিলেন। যা বিগত সময়ে কখনও পরিলক্ষিত হয়নি। আলেম উলামারা একে অপরকে সম্মান বজায় রেখেই চলতেন। বিশেষ করে যারা সিনিয়র তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মনে হচ্ছে তাদের মধ্যেও অধঃপতন শুরু হয়ে গেছে।