News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হকারদের নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক শক্তি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম হকারদের নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক শক্তি

গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকারমুক্ত রাখতে অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। স্থানীয় এমপি, নাসিক, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দলের নেতাদের যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়। এখন দুই সপ্তাহ ফুটপাত হকারমুক্ত থাকলেও আবারো রাজনৈতিক শক্তিতে দখলে নামে হকাররা। হকারমুক্ততে নগরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করে পূণরায় হকারদের দখলদারিত্বে অস্বস্তিতে ভুগছে সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক একটি মহল ফের হকারদের বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা স্থানীয় এমপি ও নাসিকের প্রশাসকের মধ্যে বিরোধীতা নিয়ে সুযোগ সন্ধানে ছুটছে।

পুনর্বাসনের আগে হকার উচ্ছেদ নয় স্লোগান নিয়ে ৫ জুলাই থেকে আবারো সড়কে নেমেছে মহানগর হকার্স ইউনিয়ন। হকাররা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় এমপি আবুল কালাম মানবিক জনপ্রতিনিধি আখ্যা দিয়ে পুনর্বাসন দাবি জানায়। এদিকে তারা কোনো অশান্তি চান না, জীবিকা নির্বাহের অধিকার নিশ্চিত করতেই আন্দোলন করছেন বলে দাবি করেন হকার নেতারা। আন্দোলনরত হকারদের ফের রাজনৈতিক শক্তিতে আবারো মাঠ সক্রিয় রেখেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। ইতোমধ্যে নাসিকের প্রশাসক ও এমপির এমন উদ্যোগকে অনিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক পেশিশক্তি প্রয়োগ চলমান রয়েছে বলে মন্তব্যে উঠেছে।

সমাবেশে রাজনৈতিক দলের কোন নেতা না থাকলেও হকার নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হকারদের ব্যবসা করতে না দেওয়ায় তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। আয় বন্ধ থাকায় অনেকেই বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। সন্তানদের স্কুলের বেতনও বকেয়া পড়ে আছে। ফলে তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। পুনর্বাসনের আগে তাদের বিকেল ৫টার পর নিজ নিজ স্থানে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে। এ দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদের এক সপ্তাহ ব্যবধানে ২০ এপ্রিল পুনর্বাসনের আগে বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে আসছেন হকার নেতারা। ওই সময়ে মাত্র সাত দিন আগে যে নেতা ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পক্ষে সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে দেখা যায় হকার উচ্ছেদের বিপক্ষে মিছিলের নেতৃত্বে। গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাসের রাতারাতি এমন ভোল পাল্টানোর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এতে ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদের বিষয়ে দলটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠে।

এদিকে এখনো হকার বসার অনুমতি না থাকলেও প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে বসছেন হকাররা। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে ফুটপাতে বসা হকারদের বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হচ্ছে।

হকার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতারা মিশ্র ভূমিকায় রয়েছেন। নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাত যানজটমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপি নেতারা সমর্থন দিয়েছেন। এবং অনেক সময় হকারদের বসতে বাধা দিয়েছেন। তবে এর বিপরীতে, ফুটপাতে বসার অনুমতি বা পুনর্বাসনের দাবিতে হকাররা বিক্ষোভ করলে বিএনপি নেতাদের একাংশ তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতিও দেখিয়েছেন। এছাড়া, সম্প্রতি চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হকার বা স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির কিছু নেতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের খবরও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা কড়া অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধভাবে বসা হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ফুটপাতে হকার বসতে না দেওয়ার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ বা কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে নাসিকের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে ফুটপাত হকারমুক্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন। কোনমতে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসতে দেয়া হবে না জানিয়েছেন।