নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১নং ওয়ার্ড যেনো মাদকের হাটবাজারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডটির পাড়া-মহল্লায় নির্বিঘেœ মাদক কারবারিরা যুবসমাজকে ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ফলে মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষায় স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের গনঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে ১নম্বর ওয়ার্ডকে মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন মরণ নেশার বেশ কয়েকজন কারবারি। দিবারাত্রি তাদের প্রকাশ্যে বেচাবিক্রির দৃশ্যে সাধারণ মানুষেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ আয়তনে বড়সড় ৪২ হাজারেও বেশি ভোটারের এই ওয়ার্ডটির কয়েকটা এলাকাকে মাদক বিক্রির নিরাপদ স্থান হিসেবে আখ্যায়িত করা যাচ্ছে। যেমন হীরাঝিল আবাসিক এলাকা, মিজমিজি সিআইখোলা, মিজমিজি বাতানপাড়া, পাগলাবাড়ী, ক্যানেলপাড় ও মিজমিজি টিসি রোড। এসব এলাকার চিহ্নিত কিছুসংখ্যক কারবারির দ্বারা মাদকের আদানপ্রদান প্রকাশ্য হয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
তথ্যমতে, বর্তমানে হীরাঝিল আবাসিক এলাকায় মাদক কারবারিদের বস হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম রবিপুত্র মো. প্রীতম ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রশাসনের সোর্স ইলিয়াস হোসেন।
এ দুই কারবারি পুরো এলাকায় বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি করে ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রি করছেন, মিজমিজি পাগলাবাড়ি ও বাতানপাড়া মাদকের হটজুনে রূপান্তরিত হয়েছে।
এই দুই এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন পাগলাবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা কুট্টির ছেলে ইমরান,তার বন্ধু শীর্ষ মাদক কারবারি মেহেদী ও একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আকাশ। এই তিন কারবারির মাদকের আদানপ্রদানে বড় গ্যাং কাজ করেন।
আদানপ্রদানকারীর মধ্যে চারজন হত্যা মামলার আসামি বিশেষ ভূমিকায় আছেন। তারা হলো মৃত খোকনের ছেলে রাকিব, বাতানপাড়ার বাতেনের ছেলে জুবায়ের, মৃদুল ও পাবেল। এরা প্রত্যেকে চিহ্নিত ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত।
সিআইখোলার গাঁজা সম্রাট হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রানা নামক এক যুবক। তিনি এক বাহিনী তৈরি করে গাঁজা বিক্রি করান,অপরদিকে রতন নামক আরেকজন ইয়াবার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক, মিজমিজি টিসি রোড ও সিদ্ধিরগঞ্জ পুলের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আবু সাঈদের ছেলে ছিনতাইকারী জসিম ও আলোচিত মাদক কারবারি চান বাদসার ছোট ভাই বকুল। তারা বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন দ্বারা কারবারকে পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এসব কারবারি ছাড়াও অসংখ্যরা মাদকের বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। যাদের কাছ থেকে সমাজকে রক্ষার আবেন জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হীরাঝিল এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের এলাকা বর্তমানে মাদকের হটস্পট। বিশেষ করে পুরানো পট্টি থেকে শুরু করে মক্কিনগর মাদ্রাসা চলাফেরা করায় দায়ে পরিণত হচ্ছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক বড় বড় নেতার সন্তান অথবা ঘনিষ্ঠজন।
শামসুদ্দিন নামক পাগলাবাড়ির এক ব্যবয়ায়ী বলেন, আমাদের এখানে মুড়ি-মোয়ার মতো মাদকের আদানপ্রদান হতে দেখি। যারা কারবার করেন তাদেরকে কিচ্ছু বলার সাহস আমাদের তো দূরের কথা গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও নেই। কারণ এরা সংঘবদ্ধ বিশাল কিশোর গ্যাগ গড়ে তুলে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কেউ কিছু বললেই হামলা করে বসে।
মাদক ব্যবসায়ী জসিম ও বকুল দ্বারা যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা বলেছেন। তার বলেন, জসিম সংঘবদ্ধ গ্রুপ দ্বারা দিবারাত্রি বিক্রি করলেও বকুল রাতে কারবার করে থাকেন। মূলত বকুলের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন খোদ স্ত্রী রিতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত আমাদের অভিযানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হচ্ছে। মাদক নির্মূলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।




































আপনার মতামত লিখুন :