নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টরে এখনো শামীম ওসমানের প্রভাব রয়েছে মন্তব্য করেছেন যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতির সমন্বয়ক তরিকুল সুজন একজন বাস মালিকের বরাত দিয়ে দাবী করেন নারায়ণগঞ্জের বন্ধন পরিবহন ও উৎসব পরিবহন দখলে রেখেছে জাকির খান এবং তৈমূর আলমের শ্রমিক দল কালা ফারুক বাহিনী। তাদের হাত থেকে নীরিহ মালিকদের বাঁচান। জাকির খান থেকে থেকে পরিবহন মুক্ত করতে পারলেই ৫০ টাকা টিকেট বিক্রি করলেও লাভ হবে। তাদের এই দাবীটি কি ভুল?
সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনার সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।
তরিকুল সুজন বলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্ধন পরিবহন ও উৎসব পরিবহন দখলে রেখেছে জাকির খান এবং তৈমূর আলমের শ্রমিক দল কালা ফারুক বাহিনী। তাদের হাত থেকে নীরিহ মালিকদের বাঁচান। জাকির খান থেকে থেকে পরিবহন মুক্ত করতে পারলেই ৫০ টাকা টিকেট বিক্রি করলেও লাভ হবে। তাদের এই দাবীটি কি ভুল?
তরিকুল সুজন বলেন, নারায়ণগঞ্জে ৫ আগস্টের পরে বহু জায়গাতে রদবদল হয়েছে। কিন্তু পরিবহন খাতে রদবদল হয় নাই। যারা আগে ওসমানের সময়ে শাহ নিজাম শামীম ওসমান তাদের অনুসারী ছিলেন; তাদের হয়ে পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তারা এখনও বহাল আছেন। তার মধ্যে অনেককেই আমরা চিনি। নাম বলে আমরা বিব্রত করতে চাই না। কিন্তু পরিস্কারভাবে বলি পরিবহন খাতে আগের সিন্ডিকেট বহাল আছে। কেবলমাত্র উপড়ের একটা অংশ পালাইছে; আর এখন এসে নতুন করে এটাতে আপনারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফলে নারায়ণগঞ্জে চাঁদা বহাল আছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে টার্নিমাল ঘাট কার দখলে যাবে এটা নিয়ে বন্দুক নিয়ে গোলাগুলি হয়েছে। এটা একাধিকবার হয়েছে। টার্নিমাল কার দখলে যাবে এটা নিয়ে ওপেন ফায়ার হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বহু বাস বহুজনে আটকিয়ে দিয়েছে। এখানে চাঁদা স্পষ্ট। আমরা পরিস্কারভাবে মনে করি চাঁদা বন্ধ করতে পারলে প্রকৃত পরিবহন মালিকরা সুফল পাবে। আমরা সেই মালিকদের পক্ষে; চাঁদাবাজদের বিপক্ষে; সিন্ডিকেটের বিপক্ষে।
যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণ করে নিলো গণশুনানী ছাড়া; আর এটা যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা দিয়ে দেন; আমরা মেনে নিবো? কষ্মিনকালেও না। বিআরটিএ নির্ধারণ করলেও আমরা মানবো না। আমরা ভাড়া যেটা যৌক্তিক মনে করি সেটাই মেনে নিবো। কারণ বিআরটিএ লোকজনকে টাকা পয়সা দিয়ে কিনে পক্ষে নিবেন; জনগণের বিপক্ষে যাবেন; আমরা সেটা মানবো না। আপনারা যারা যারা ওসমান পরিবারের চাঁদার সহযোগি ছিলেন অনেকেই এখন পর্যন্ত তারা এই পরিবহনে রয়েছেন। আমরা সব জানি। আমরা এই বিষয়গুলো বলতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আওয়ামী লীগের সময় থেকে যখন ভাড়া নির্ধারণ করা হয় যাত্রীদের পক্ষ থেকে একজনকে রাখা হয় আর মালিকদের পক্ষ থেকে ১৫ জনকে রাখা হয়। বিআরটিএ সবসময় মালিকদের পক্ষ নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করে। এটা সবসময়েই অভিযোগ। সারা বাংলাদেশ কেনা যাদের। শামীম ওসমান এবং তাদের আত্মীয় স্বজন চ্যালা চামুন্ডারা চাঁদা খেয়ে এই পর্যন্ত এটা সবাই জানে। শামীম ওসমান গডফাডার তকমা কেন হলো। এখানে মার্ডার পর্যন্ত হয়ে এই ভাড়া নিয়ে চাঁদার জন্য। আপনাদের বন্ধন পরিবহনের পক্ষ থেকে র্যাব-১১ কে চিঠি দেয়া হয়েছে। কারা প্রতিমাসে কতটাকা করে শামীম ওসমানকে নাসিম ওসমানকে দেয়। সেই চিঠি আমাদের কাছে ছিলো। ২০১১ সালে আমরা সেই চিঠির কথা বলেছি। সেই জায়গা থেকে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। সেই ভাড়া আমরা কমাতে বাধ্য করেছি।



































আপনার মতামত লিখুন :