News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আশার হস্তক্ষেপে ২৬ বছর পর একতা সুপার মার্কেটে নির্বাচন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম আশার হস্তক্ষেপে ২৬ বছর পর একতা সুপার মার্কেটে নির্বাচন

নারায়ণগঞ্জের মদনপুরের একতা সুপার মার্কেটে দীর্ঘদিনের বিরোধ, নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা ও দোকান দখলের অভিযোগের অবসানে অবশেষে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ২৬ বছর ধরে একই ব্যক্তির নেতৃত্বে মার্কেট ও সমবায় সমিতি পরিচালনা, ব্যবসায়ীদের দোকান দখল, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ঘোষণা এসেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে একতা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা।

তিনি বলেন, অন্যায়, অবিচার বা দুর্নীতির কোনো পক্ষ নেই। সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে যেতে হবে। ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মদনপুরে একতা সুপার মার্কেট ১৯৯৭ সালে ১০১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০০ সালের ১৬ নভেম্বর ‘একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে নিবন্ধিত হয়। সরকারি নথিতেও সমিতিটির নিবন্ধন নম্বর ৩৩৬ এবং নিবন্ধনের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০০০ উল্লেখ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেট প্রতিষ্ঠার সময় সুরুজ মিয়াকে সাময়িকভাবে সভাপতি করা হলেও পরবর্তী প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনিই সভাপতির পদ ধরে রাখেন। সমবায় আইন ও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির নেতৃত্বে মার্কেট পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, মার্কেটের সামনে অবৈধভাবে হকার বসানো এবং দোকান মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাদের দাবি, হকারদের কাছ থেকে নেওয়া ভাড়া ও দোকান মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের একটি অংশ সমিতির হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি দোকান দখল নিয়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে অন্তত ১২ জন সদস্যের দোকান দখলে নেওয়া হয়েছে। এসব দোকান থেকে এখনো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মার্কেটের ৪১ নম্বর সদস্য হাফেজ মো. ইসহাক কবির বলেন, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনি একতা সুপার মার্কেট সমিতির ক্যাশিয়ার ছিলেন। তার দাবি, ওই সময়ে সমিতিতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা জমা হলেও পরে সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাকে অবহিত করেন। পরে তিনি সরেজমিনে একতা সুপার মার্কেটে গিয়ে উভয় পক্ষের ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন।

বুধবারের সভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, মার্কেট পরিচালনার জন্য তিন মাসের একটি এডহক কমিটি গঠন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে সমিতির সদস্য ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে মার্কেট ও সমবায় সমিতির দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে একতা সুপার মার্কেটের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকান মালিকানা, নেতৃত্ব ও সমিতির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে তার একটি সাংগঠনিক সমাধান প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে মার্কেট পরিচালনায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হবে।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি যেসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুরুজ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।