নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আসীন হয়ে বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ উন্নয়ন কাজ করে গেছেন সাবেক সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক (সাবেক শেখ রাসেল পার্ক) জল্লারপাড় লেক, বাবুরাইল খাল, নিমতলী লেক, বন্দরে আলী আহমদ চুনকা সড়ক, আলী আহমদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তন, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিএনডি লেক। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নিজের কাজের স্বাক্ষর রেখেছেন আইভী।
গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন দুইজন প্রশাসন নিয়োগ দেয়া হলেও তারা কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। বিএনপি সরকারের দায়িত্বে আসার পর প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন সাখাওয়াত হোসেন খান। এসেই ঘোষণা দিয়েছিলেন শহর থেকে হকার উচ্ছেদ এবং ইজিবাইক সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। কিন্তু তা করতে পারেননি তিনি। হকার রয়ে গেছে আগের মতই। ইজিবাইকের নতুন নাম্বারপ্লেট এবং নতুন পরিকল্পনা হাতে নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এবার সাখাওয়াতের সামনে এসেছে নতুন সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হওয়া শহরের শহীদ জিয়া হল সংস্থার ও পুনঃনির্মান উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এজন্য জাইকার ১২০ কোটি টাকা সহায়তায় নতুন করে ভবন নির্মান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট এবং ভবনের প্রাথমিক নক্সা সামনে এনে দাঁড় করিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে দুইটি প্রস্তাবিত নক্সা নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে উন্মুক্ত করেছেন। সেই সাথে রেখেছেন সংযোজন, বিয়োজন এবং পরিবর্তনের সুযোগ। সকলের পরামর্শ নিয়েই নতুন করে সাজাতে চান এই স্থাপনাটিকে।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অডিটরিয়ামে উপস্থাপন করা হয় প্রস্তাবিত নতুন ভবনের নক্সা। নতুন স্থাপনায় গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, সেমিনার কক্ষ, মাল্টিপারপাস রুম, পাবলিক স্পেস, নাট্যশালা, রিহার্সেল রুম, নামাজ ঘর, আর্ট গ্যালারি, ফুডকোর্ট, ভিআইপি রেস্টরুম নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবনের নক্সা উপস্থাপন করা স্থপতি জাহিদুল ইসলাম খান বলেন, ভবনটিতে ১৬০ টি গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, ৯০০ সিট সমৃদ্ধ অডিটোরিয়াম, জিয়া গ্যালারি, লাইব্রেরি, মাল্টিপারপাস রুম, মিনি থিয়েটার, পাবলিক স্পেস, ক্যাফেটেরিয়া এবং রেস্টিং এরিয়া রাখা হবে। এছাড়া ভবন নকশার সময় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিটি করপোরেশনের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে। বিরোধী দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয় সেখানে। সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, প্রত্যেকেই তাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন লিখিত আকারে। আমরা সেই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।
নগরবাসী বলছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আলোচিত কিছু করতে পারেননি সাখাওয়াত। নগর রয়ে গেছে আগের মতই। তবে চুনকা পাঠাগারের মত জিয়া হল সংস্থার যদি করতে পারেন এবং সেটি যদি নগরবাসীকে সন্তুষ্ট করতে পারে। তাহলে দীর্ঘদিন স্বরণে থাকবেন সাখাওয়াত হোসেন খান। এটি তার জন্য বড় সুযোগ। তাই নাসিক নির্বাচনের আগেই এই স্থাপনার কাজ শুরু করে দিতে হবে তার। আর তাহলেই কেবল সম্ভব ইতিহাস রচনা করে যাবার।



































আপনার মতামত লিখুন :