News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মাটি কাটে বিএনপি! মাথা ফাটে এনসিপির


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম মাটি কাটে বিএনপি! মাথা ফাটে এনসিপির

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার বক্তাবলীতে অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের পরেও সমাধান না হওয়ায় এবার তা রূপ নিয়েছে সংঘাতে। একদিকে এনসিপির নেতাকর্মীদের মাটি কাটার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের শেল্টারে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ। উভয় মিলে ক্রমেই ঘোলাটে পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিবাদের কারণে হামলার শিকার হন জেলা এনসিপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদ। তার অভিযোগ, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।

জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবায়ের সরদার জানান, বক্তাবলী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিকেলে জেলা এনসিপির নেতৃবৃন্দ একটি ঘরোয়া বৈঠকের জন্য বক্তাবলী প্রবেশ করে। এসময় ঘাট থেকে নামার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জানায়, কোনভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাঁটা থামছে না। পুলিশ প্রশাসনও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ শুনে দ্রুত এনসিপির নেতাকর্মীরা বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন।

তবে ফাঁড়ির বাইরেই অবস্থান করছিলেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের ভাই ইয়াসিন আরাফাত। তিনি এনসিপির নেতাকর্মীদের শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলেন, ফাঁড়িতে যদি বালু নিয়ে কোন কথা হয় তাহলে তৌহিদের খবর আছে। বিষয়টি পাত্তা না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন তারা।

সন্ধ্যার পর বক্তাবলী বাজারে তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের উপর হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগী তৌহিদের দাবী, হালিম আজাদের নেতৃত্বে ইয়াসিন আরাফাত, নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়ের সহ ১৫/২০ জন আমার উপর আক্রমন করে। চাপাতি, এসএস পাইপ দিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে। আমার সাথে থাকা কয়েকজন ছোটভাইকেও তারা মারধর করে। পরে আশেপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দায়ের হওয়া মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামীরা হলেন, হালিম আজাদ, ইয়াসিন আরাফাত, নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়ের, হাসান শরীফ, শরীফ, শুভ, রানা, ইমরান, লিটন, শরিয়ত উল্লাহ, বিজয়, রাসেল প্রধান, মাসুম ওরফে মরা মাসুম। এছাড়া আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার বিএনপির

হামলার বিষয় জানতে চাইলে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির বলেন, ‘আমি শুনতে পেরেছি এনসিপির এক নেতার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারলাম আমাদের হালিম নাকি এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। এর বেশী কিছু জানতে পারিনি।’

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মূল অভিযুক্ত হালিম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি ঘটনার সময় বক্তাবলী থেকে অনেক দূরে ছিলাম। আমি শুনেছি বক্তাবলীতে এনসিপির তৌহিদের সাথে কি ঝামেলা হয়েছে। কিন্ত এই ঘটনায় আমাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে।’

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘বক্তাবলীতে এনসিপি নেতার উপর হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে এই ঘটনার সূত্র কিছুদিন আগে হালিম আজাদের উপর হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।’