নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সহিংশতার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এতে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে বুধবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো ফতুল্লা মডেল থানার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউ বাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেষন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালের বাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ ও কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) শামিম জানান, গ্রেফতারকৃতদেরকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় এজাহারনামীয় অপর আসামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মোঃ রাকিব, এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিমের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহ সভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডের শিবু মার্কেট থেকে ফতুল্লা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন।
এজাহারে দাবি করা হয়, বেতন বৃদ্ধির দাবিকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সংগঠিত করার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইন্ধন ও উসকানি ছিল। এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সরকার উৎখাতের চেষ্টা এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ইটের আঘাতে কনস্টেবল নাঈম ও কনস্টেবল সাগর আহত হন। পাশাপাশি উৎসব ও বন্ধন পরিবহনসহ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন গ্যাসগান থেকে মোট ৮৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। এর মধ্যে ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও মুন্সিগঞ্জে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত গ্যাসগান থেকে এসব টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।



-20261104095621.jpg)































আপনার মতামত লিখুন :