শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন চলমান থাকলেও নারায়ণগঞ্জে শান্ত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনের নামে শ্রমিকরা ভাঙচুর করা সহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খল কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিরব ভূমিকায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা যেন আর নিরব থাকলেন না। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছেন। সেই সাথে জন সাধারণেরও ভোগান্তিও সৃষ্টি করেছেন।
আর এই আন্দোলনের পিছনে কোনো উসকানি আছে কিনা সেটা বেশ গুরুত্ব সহকারেই দেখছে পুলিশ। এই উসকানিদাদের বেশ শক্তহাতেই প্রতিহত করবে বলে জানান দিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২ টাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়গঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় অবরোধ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এদিন দুপুর ১২ টা থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল সহ বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় এসে জড়ো হয়।
এরপর শ্রমিকরা একযোগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ওভারপাস সহ দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। রাস্তায় টায়ার জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ করে। সেই সাথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারী ও বাস যাত্রীদের। যাত্রীরা পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যান। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বসে থাকেন গাড়ির মধ্যে। সবমিলিয়ে জন সাধারণের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই সাথে কোনোভাবেই যেন শ্রমিকদের শান্ত করা যাচ্ছিলো না।
আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে ছিলো নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন। নগরীর গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এর পাশাপাশি ৫ প্লান্টুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
সেই সাথে ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ সহ নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির ও জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান সহ বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা ফতুল্লার শিল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে লিংক রুটে অবস্থান নেন।
দুপুর ২টার দিকে সংসদ সদস্যরা এবং ডিসি ও এসপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে গেলে কাঠের পুল এলাকার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় পুলিশ তাদেরকে ব্যারিকেড দিয়ে লিংক রুটে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে শিবু মার্কেট এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুট অবরোধ করে। ফলে এই রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের কর্মকর্তা প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও শিবু মার্কেট থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে জালকুড়ি ওভার ব্রিজের উপর অবস্থান নেন হাজার হাজার শ্রমিকের অন্য একটি গ্রæপ। সেই গ্রæপের সাথে এসে শিবু মার্কেটের শ্রমিকেরাও যোগ দেয়।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশ জলকামান ও এপিসি (আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার) নিয়ে জালকুড়ি ওভারব্রিজের কাছে যাওয়া মাত্রই তাদেরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।
শ্রমিকদের নিক্ষেপ করা ইটে এক পুলিশ সদস্যের চোখ আক্রান্ত হলে তাকে দ্রæত অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল এখানে উস্কানি দিচ্ছে। আমরা দেখছি পতিত সরকারের দোসর আছে সেই দোসরগুলো শ্রমিক সংগঠনের ভিতরে ঢুকে তাদের মধ্যে উস্কানি দিচ্ছে। এটা বরদাশত করা হবে না। যারা সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে; যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের খুঁজে বের করবো। প্রত্যেক জায়গায় ক্যামেরা সেট করা আছে। ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করা আছে। আমরা দেখেছি তাদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আমরা সাধারণ শ্রমিকের সাথে আছি। সরকার তাদের বিষয়টি দেখবে





































আপনার মতামত লিখুন :