নারায়ণগঞ্জের আলোচিত শুভ ওরফে বিল্লালকে গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান হত্যাকারী অনিক ইসলামের বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
আহতরা হলেন- উত্তর চাষাঢ়া এলাকার আইয়ুব ও তার দুই ছেলে রনি ও মেরাজ। তাদের মধ্যে মেরাজের অবস্থা গুরুত্বর। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে আহত রনি বলেন, আমাদের পাশ^বর্তী বাসিন্দা রুবেল বাড়ি বিক্রি করেছেন। সেই বাড়ির সাথে আমাদের বাড়ির একটি রাস্তা রয়েছে। যেখানে আমাদের ৪ ফিট জায়গা রয়েছে। আর রুবেলের ১ ফিট জায়গা রয়েছে। রুবেল জায়গা বিক্রি করে দেয়ায় আমরা আমাদের জায়গার মধ্যে দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু রুবেলের বাড়ি ক্রয় করা অনিক ফোন দিয়ে বলে; আপনারা দেয়াল নির্মাণ করতে পারবেন না।
তখন আমরা বলি আমরা আমাদের জায়গার মধ্যে দেয়াল নির্মাণ করছি। আপনার কথা বলতে হলে আপনি যার কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করেছে তার সাথে কথা বলেন। তখন অনিক বলে আমি না করেছি দেয়াল দিতে পারবেন না। দেয়াল দিবেন না। নারায়ণগঞ্জ শহরে আমি যা বলি তাই হয়। যদি দেয়াল দেন তাহলে আমি লোক পাঠিয়ে হামলা করাবো।
রনি বলেন, অনিক কথা বলার কিছুক্ষণ পরই তার লোকজন এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। আমার পরিবারের সদস্যদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার মায়ের ওপর ঢিল ছুড়ে। আমি মসজিদে ছিলাম; মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমার মাথায় কোপ দেয়। আমাকে কোপ দিতে আমার ভাই আসলে তাকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আমার বাবার ওপর হাত তুলে। আমরা এখন ছোট ভাইকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। আমরা আইনের আশ্রয় নিবো।
জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শুভকে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। শুভ হত্যার ২৪ ঘন্টা ব্যবধানে ডিবি পুলিশ মাইগ্যা সুমন, সিয়াম ও সোহানকে গ্রেপ্তার করে খুনের জট খুলেন। তাদের প্রাথমিক স্বীকারে অনিক ও অহিদের ছোড়া গুলিতে শুভকে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শুভকে এলোপাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। অন্যদিকে মাইগ্যা সুমনের স্বীকারোক্তিতে রামকৃঞ্চ মিশন থেকে অস্ত্র ও মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ডিবি।
মাদক ব্যবসা দ্ব›দ্ব নিয়ে শুভ ওরফে বিল্লাকে হত্যা পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করেন মাদক স¤্রাজ্ঞী ফতে ও তার ছেলে অনিক। এতে অর্থদানকারী মাইগ্যা সমুন, সিয়াম, বিষু, সোহান, ধিমন, অনিকের মা ফতে, অনিকের বাবা ইসলাম, অনিকের ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এখনো প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পলাতক রয়েছেন গুলিকারী অনিক, অহিদ, বাহার, রাহাত, ইমন, জয়, সাজ্জাদ সহ দুই ভাড়াটে খুনি।




































আপনার মতামত লিখুন :