News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

কারাগারে আইভীর ৮ মাস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম কারাগারে আইভীর ৮ মাস

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকা কন্যা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সিটি কর্পোরেশনের টানা তিনবার নির্বাচিত মেয়র হয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি, ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামীলীগের টানা সরকার থাকতেও আইভী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন শহর ও জেলা কমিটিতে। দেশের নারী মেয়র হিসেবে আইভী ছিলেন সর্বপ্রথম। নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থানে আইভী ছিলেন জনগণের অন্তরে। নিজ দলের ক্ষমতাসীন এমপি বিরুদ্ধে ছিলেন আইভী সব সময় সোচ্চার।

সেই আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পতনের মাধ্যমে কোনঠাসা হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই সময়ের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে টানা একাধিক ছাত্র আন্দোলনে হতাহত ঘটনা মামলায় আসামী হন আইভী। এর আগে ১৮ আগষ্ট অন্তবর্তী সরকারের প্রজ্ঞাপনে মেয়র আইভীকে অপসারণ করে। এরপর থেকে তিনি দেওভোগ চুনকা কুটির বাড়িতে অবস্থান করেন। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থক ভালোবাসা মানুষদের আনাগোনা নজরে পড়েন তিনি।

গত বছর ৯ মে রাতে চুনকা কুটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সারারাত নাটকীয়তা মোড় নিয়ে ভোরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং টানা আট মাস ছয় দিন যাবৎ কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোরনের একাধিক মামলায় জামিন পেলেও সরকার পক্ষ আবেদনে স্থগিত করা হয়।

আইভীর হ্যাটট্রিক

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথমবার নিজের দল আওয়ামী লীগের নেতা, ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার ধানের শীষের প্রার্থী, ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি তৃতীয়বার বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে। সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী বদলেছে বারবার, কিন্তু ভোটের ফল বদলায়নি। তিনি চার ব্যবধানে এখনো জনগণের কাছে প্রাণপ্রিয় মেয়র হিসেবে আলোচনা রয়েছেন।

বারবার কেন ভোটে জিতছেন- এই প্রশ্নে আইভীর উত্তর এসেছে, জনগণকে আস্থায় আনার জন্যে কখনও মিথ্যা বলিনি, অযথা আশ্বাস দিইনি। সবচেয়ে বড় কথা মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছি, প্রতিবারই রিটার্ন করেছে। মেয়র পদে টানা তৃতীয়বার জয়ের আভাস নিয়ে ছিলেন সাহসী ভূমিকায়।

আইভীকে গ্রেপ্তার

গত বছরের ৯ মে আইভীকে শহরের পশ্চিম দেওভোগে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ভ্যানে ওঠার আগে আইভী সাংবাদিকদের বলেন, আমি জানি না আমাকে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়েছে প্রশাসন, কিন্তু আমাকে দেখাতে পারেনি। আমি ২১ বছর সকল কিছুর উর্ধ্বে থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সেবা দিয়েছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমি সেই অপরাধে অপরাধী হতে চাই।

এরপর একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২৭ মে আইভীকে মিনারুল সহ একাধিক হত্যা মামলায় রিমান্ড ছিলেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। পরে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হয়।

১৮ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত চারটি হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়ে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান বলেন, ফতুল্লা থানার চারটি হত্যা মামলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সেলিনা খাতুন এবং সদর থানার সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলার মামলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাইমানাহ আক্তার মনির আদালতে শুনানি হয় শুনানির সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

Islam's Group