বন্দর গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার বিকেলে বন্দর সিরাজদ্দৌলা ক্লাবমাঠে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনার বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, মুক্তিযোদ্ধা কাজী নাসির, মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ খান, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সভাপতি জিয়াউর ইসলাম কাজল, সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবির শহর কমিটির সভাপতি আবদুল হাই শরীফ, শহীদ পরিবারের সন্তান ফাহমিদা আজাদ, চারণ সাংস্কৃকি কেন্দ্রের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকার ও সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা প্রমুখ।
রফিউর রাব্বি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত গণহত্যার প্রকৃত তথ্য ও চিত্র এখনো আমাদের মূল ইতিহাসের সাথে যুক্ত হতে না পারাটা দুঃখজনক ও চরম-ব্যর্থতা। এ সব তথ্য ও সংবাদ এখনো অনুদঘাটিত এবং অবহেলিত। বন্দর গণহত্যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক নির্মমতম হত্যাকাণ্ড। একাত্তরের ৪ এপ্রিল ভোররাতে এলাকার বিহারিদের সহায়তায় নবীগঞ্জঘাট ও দক্ষিণের কেরোসিনঘাট দিয়ে একসঙ্গে দুইদিক থেকে বন্দরে প্রবেশ করে পাক হানাদারবাহিনী। নবীগঞ্জ দিয়ে পাড় হওয়া গ্রুপটি ইস্পাহানী ও জেলেপাড়ার বহু বাড়ি-ঘর গানপাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে দিতে এবং লোকদের ধরে বন্দর সিরাজদ্দৌলা ক্লাব মাঠে এনে হাজির করে।
অন্যদিকে কেরাসিনঘাট দিয়ে পাড় হওয়া গ্রুপটি হিন্দু-অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে থাকে। দুটি আখড়া ও মন্দির গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সিরাজদ্দৌলা ক্লাব মাঠে সকালে ৫৮ জনকে পাক সেনারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে প্রথমে গুলি করে হত্যা করে, পরে গানপাউডার দিয়ে সমস্ত লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। রাতে এলাকাবাসী হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে ৫৪ জন শহীদকে এই বদ্ধভূমিতে গণ কবর দেয়।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যে ১০৯ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বন্দর গণহত্যা তার অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের যথাযথ ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এর উপর ভিত্তি করেই আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ খান বলেন, বন্দর গণহত্যার দিনটি অবহেলায় পালিত হয়। সরকার প্রশাসনের কোন দায় থাকে না।
তিনি সাংস্কৃতিক জোটের সাথে সকলকে যুক্ত হয়ে সম্মিলিত ভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানান।
আলোচনায় বক্তারা চব্বিশের অভ্যুত্থানকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর বর্তমান প্রয়াসের নিন্দা জানিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে শহীদ বেদিতে পুস্পস্তবত অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, শহীদ পরিবার, জেলা সিপিবি, জেলা বাসদ, সমমনা, উন্মেষ সাংস্কৃকি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ভলান্টিয়ার এসোসিয়েশন। সব শেষে সমবেত ভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।



































আপনার মতামত লিখুন :