নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন নির্বাচনে জয়ী হবার আগ থেকেই বার্তা দিয়ে আসছেন তার নির্বাচনী এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবেন। নির্বাচনের পরে জয়ী হলেও তিনি হয়েছেন বিরোধী দলীয় এমপি। তবুও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সবশেষ আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে একাধিক মাদক স্পটের নাম উল্লেখ করেছেন। যেখানে প্রয়োজনে পুলিশের পাশাপাশি, র্যাব ও বিজিবিকে সাথে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসনকে।
তার এমন বার্তার পর সম্প্রতি যৌথ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। মাদক নির্মূলে যৌথ বাহিনীর এমন অভিযান আলোচনা তৈরী করেছে। সেই সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা এমপি আবদুল্লাহ আল আমিনের সেই প্রস্তাবনার প্রশংসা করেন। তবে প্রশংসা ও সুনামের বিপরীতে থেমে নেই এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার কারিগরেরা। সম্প্রতি তাদের সাজানো এক গোপন ভয়ংকর পরিকল্পনার কথা ফাঁস হয়েছে। যেখানে তরুন এমপি আল আমিনকে বড় ধরনের ক্ষতি করার চক্রান্ত শুরু করেছে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের শেল্টারদাতারা।
পরিকল্পনা সাজাতে থাকা একাধিক সূত্রে জানা যায়, এমপি আল আমিন কেবল অপরাধীদের চাপে রাখছেন তা নয়। যেসব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অনৈতিকভাবে অপরাধীদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে অপরাধ রাজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছে, তাদেরও মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। যার ফলে এমপি আল আমিনকে শায়েস্তা করা তাদের জন্য জরুরী হয়ে উঠেছে। সেই মোতাবেক সাজাচ্ছেন পরিকল্পনা।
জানা গেছে, কাশিপুর অঞ্চলে মাদক ভূমিদস্যু চক্র, নির্বাচন চলাকালে আল আমিনের উপর হামলাচেষ্টা চালানো চক্র, বক্তাবলী অঞ্চলের নদী থেকে মাটি তোলা চক্র, ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের আশেপাশে থাকা মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের শেল্টারদাতারা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রুপগুলো একত্রিত হয়েছে আল আমিনের উপর হামলা চালানোর বিষয়ে।
যা রয়েছে পরিকল্পনায়
পরিকল্পনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এমপি আল আমিনের উপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। বিশেষত আল আমিন প্রায় প্রতিদিনই ফতুল্লা অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন এবং রাস্তাঘাট, ড্রেন, জলাবদ্ধতা সমস্যাগুলো পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি এনসিপি ও জামায়াতের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রোগ্রামে যুক্ত হন। তবে আল আমিন অত্যন্ত কম প্রটোকল নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। এই দুর্বল দিক বিবেচনা করে তাকে সহজেই লক্ষ্যবস্তু করা যাবে বলে পরিকল্পনা সাজিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে দিনে ও রাতে তার গতিবিধি নজরদারি করতে এলাকায় এলাকায় লোকজন বসিয়ে রেখেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
ফাঁস হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীরা কোন একটি অনুষ্ঠানকে বেছে নিবে আল আমিনের উপর হামলার জন্য। যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আওতাধীন নয়। একই সাথে কাছের কোন ভবন থেকে সহজেই এমপির দিকে নিশানা তাক করা যায়। তেমনই একটি স্থানের প্রোগ্রামে আল আমিন উপস্থিত হলে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা পুরো চক্রের সকল সদস্যরা বহর নিয়ে হাজির হয়ে হামলা চালাবে। কিংবা কোন ভবন থেকে সুকৌশলে এমপির উপর হামলা চালানো হবে। ঘটনার পর এমপি আক্রান্ত হলে যথারীতি মামলা দায়ের করার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করবে এবং প্রয়োজনে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা সাজিয়েছে।
পরিকল্পনার নেপথ্যের কারণ
হামলা চালানর নেপথ্যে রয়েছে এনসিপি নেতাকর্মীদের কোনভাবে বশে আনতে না পারা এবং বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা ও টেন্ডারবাজিতে বাঁধা পাওয়া। একচ্ছত্র ভাবে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ যারা করতো তারা এখন এমপি ও এমপির দলকে মাথাব্যাথা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিভিন্ন ভাবে এমপি ও তার দলের নেতাদের নানান প্রস্তাব দিয়ে অপরাধমূলক কাজের অংশীদার হবার প্রস্তাব দিয়ে সুবিধা করতে পারেনি মাদক ব্যবসায়ীরা। যেই কারনে তারা এখন এমপি ও এমপির অনুসারীরা শক্তিশালী হয়ে উঠার আগেই হামলা চালিয়ে দুর্বল করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
ইতোপূর্বে বিসিকে এমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় আত্মবিশ্বাস পেয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। যেই কারনে তারা ভাবছে, হামলা চালানোর ঘটনা ঘটলে এনসিপির নেতাকর্মীরা তাৎক্ষনিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না। বরং তারা প্রশাসনের উপরেই নির্ভরশীল থাকবে। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই তারা সটকে যেতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন অত্যান্ত অপরাধ প্রবন একটি এলাকা। এখানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছেন এমপি আল আমিন। যেই কারনে অপরাধী চক্রটি আগে থেকেই ক্ষুব্ধ। বিরোধী দলীয় এমপি হয়েও এখনও যেভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান জারি রেখেছেন, তা এই অপরাধ চক্রের মাথাব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমপির কারনে তারা নানান স্থানে নির্বিঘ্নে অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছেন না। যেই কারনে এমন পরিকল্পনা সাজানো অস্বাভাবিক নয়। কারন গডফাদার শামীম ওসমান বহু বছর ধরে এই নেটওয়ার্ক তৈরী করে গেছে।
এমন অবস্থায় এমপি অবশ্যই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে কোন কর্মসুচীতে যুক্ত হবার আগে সেখানকার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এগোতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা।
































আপনার মতামত লিখুন :