নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মাসদাইর ও আশেপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হলেও অধরা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। এসব শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগিদের কাছে যেমন অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার রয়েছে তেমনি তারা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব মাদক সম্রাট ও তাদের সহযোগিদের হাতে একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি দেখা গেছে। ক্রমশই যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাদক সম্রাটরা। ইতোপূর্বে অভিযানে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে এসে কিছু মাদক স্পটের কথা বলেছিলেন। সে সকল স্পট নিয়ে আমরা করছি। আমরা মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা এদেরকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। আশা করছি আমরা শীঘ্রই জিরো অবস্থানে নিয়ে আসতে পারবো। আমাদের পুলিশ সদস্যরা সারারাত অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে মাসদাইরের শীর্ষ মাদক সম্রাট জাহিদ ও তার অনুগামীদের গ্রেফতারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি জানান।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মাসদাইর ও আশেপাশের এলাকা যেন মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাদক সম্রাটরা। মাসদাইরে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার অভিযানে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েক মাস আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার পরে এবার অভিযানে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগিরা।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ইমন শেখ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে মাদক সম্রাট জাহিদ বাহিনী।
এর আগে গত ১৫ নভেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরে বেগম রোকেয়া স্কুলের গলির সামনে মাদক স্পটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় স্থানীয় কৃষকদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একই সাথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় ওই ব্যাক্তিকে। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ১৩ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাহিদুর রহমান পারভেজকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত মো. নাহিদুর রহমান পারভেজ এলাকায় কনফেকশনারী দোকান ও ইন্টারনেট ব্যবসা রয়েছে।
আহত নাহিদুর রহমান পারভেজ বলেন, মাসদাইর বাজার থেকে আসার পথে বেগম রোকেয়া স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে একজনকে দেখছিলাম। এসময় বুইট্টা মাসুদ বলে তাকিয়ে রয়েছিস কেন? এই কথা বলেই অস্ত্র বের করে গুলি করে দিলো। বলতে থাকে তুই কে? এরপর পিছন থেকে দৌড়ে এসে রিপন ধারালো সুইস গিয়ার দিয়ে হাতের মধ্যে ছুরিকাঘাত করে। আরেকজন জাহিদ এসে লোহা দিয়ে মাথায় বাড়ি দেয়। সেই সাথে বুইট্টা মাসুদ আবার গুলি করে। আমি দৌড়ে চলে আসি।
তিনি আরও বলেন, আমি শুনেছি এই গলিতে বুইট্টা মাসুদরা মাদক ব্যবসা করে। এইজন্য তারা মনে করছে আমি তাদেরকে দেখছি। কিন্তু আমি এখানে দাঁড়িয়ে অন্যজনকে দেখছিলাম। আমি এর বিচার চাই।
এদিকে কৃষকদল নেতার উপর প্রকাশ্যে হামলা ও গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে গ্রেফতার অভিযানে যাওয়া র্যাবের গোয়েন্দা টিমকে লক্ষ্য করে ছোরা গুলিতে জবা (২২) নামে একজন নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে পশ্চিম মাইসদাইর বালুরমাঠ এলাকার গাইবান্ধা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে সন্ত্রাসী জাহিদকে গ্রেফতারে তৎপর হয় র্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল। দলটি ফতুল্লার মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় পৌঁছালে জাহিদ ও তার সহযোগীরা র্যাবের গোয়েন্দাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে। এসময় জাহিদের ছোড়া গুলি স্থানীয় এক বাড়ির রান্নাঘরে থাকা জবা আক্তার (২২) এর বুকে এসে লাগে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জবা আক্তারের স্বামী রহিম উদ্দিন জানান, তার স্ত্রী রান্না করছিলেন, হঠাৎ গুলি এসে তার বুকে লাগে। কীভাবে বা কোথা থেকে গুলি এসেছে তা তিনি নিশ্চিত নন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, শনিবারের ঘটনার পর থেকেই জাহিদকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রোববার এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকেলে জাহিদ ও তার লোকজন পারভেজকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সন্ত্রাসী জাহিদের নামে ৩টি হত্যা মামলা রয়েছে।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শনিবারের ঘটনার র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সেই প্রেক্ষিতে রোববার আমাদের সোর্স কাজ শুরু তাদের অবস্থান শনাক্ত করার। পাশাপাশি আমাদের আভিযানিক দলটিও সেই স্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। তবে আমাদের দলটি পৌছানোর আগেই র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতার বিষয়টি জাহিদ ও তার দল কোনভাবে বুঝে ফেলে। আর তখনি তারা গুলি ছুড়ে। এতে এক বাড়িতে থাকা নারী গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের হাতে ধারালো অস্ত্রের পরে এবার আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মাসদাইর ও আশেপাশের এলাকা মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে মাসদাইরের বেগম রোকেয়া স্কুলের সামনের দুটি গলিতে এমন কোনো মাদক নেই যা পাওয়া যায়না। অভিযোগ রয়েছে, এখানে সকাল সন্ধ্যা প্রকাশ্যে ডেকে ডেকে মাদকের বেচাকেনা চলে। যার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। তবে পারছেনা শুধু প্রতিবাদ করতে। কারণ এর পেছনে রয়েছে মাফিয়া বয়েজ নামে ভয়ঙ্কর একটি অপরাধী চক্র। বাজার থেকে শেরে বাংলা সড়ক দিয়ে কিছুটা উত্তর দিকে গেলেই চোখে পড়বে বেগম রোকেয়া খন্দকার পৌর উচ্চ বিদ্যালয়। এর পাশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরো একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। পৃথক এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করতে আসেন। তবে তারা এ সময় লেখাপড়ার সাথে দেখেন সমাজের কালো অধ্যায়।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে মাসদাইর বাজারের মাদকের হাটের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যাতে স্কুলের সামনে সড়কে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং প্রকাশ্যেই যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে সেটি সচিত্র দেখানো হয়। এরপরে গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পরে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা কমলেও গেল বছরের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে আবারো মাদক সম্রাট জাহিদ, সেলিম, রাসেল, পোড়া কাকনরা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
চলতি বছরের ১৮ মার্চ দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৪ জনকে আটক করে। তখন সাথে সাথে তাদের উপর হামলা করে ৪ অপরাধীকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মাফিয়া বয়েজ এর সদস্যরা সশন্ত্র হামলা চালিয়ে সহযোগীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলার কর্মকর্তারা জানান, ১৮ মার্চ দুপুরে ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইরে বেগম রোকেয়া খন্দকার স্কুলের বিপরীতে একটি বাড়িতে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে তারা অভিযানে যান। এসময় ৪ জন মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হলেও তাদের ২০-২৫ জন সহযোগি দেশীয় ধারালো অস্ত্র সহকারে হামলা চালিয়ে আটককৃতদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটর নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাজা, ইয়াবা, বিদেশী মদ ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে। তারা আরো জানান, জাহিদ, সেলিম কসাই, রাসেল কসাই, পোড়া কাকনসহ একদল মাদক বিক্রেতা একটি বসতবাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো। হামলার সময় সেই সিসি ক্যামেরার ডিভিআর নিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা।
গত ২৯ জুন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল কলেজে একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রাইভেট কারে থাকা যুবক সাব্বির হোসেন ওরফে দিপু (২৯) পুলিশের হাত থেকে পালানোর জন্য তিনটি গুলি ছোড়ে। যুবককে ধরতে গিয়ে ধস্তাধস্তির সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। সেসময় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন ওরফে দিপুকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে একটি ২২ বোর রিভলবার, দুটি তাজা গুলি, ৭০টি ইয়াবা এবং একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। দিপু মাসদাইর এলাকার হাজি আবুল কালাম তালুকদারের ছেলে।
সর্বশেষ ২৩ জুলাই ফতুল্লার মাসদাইর ঘোষেরবাগ এলাকায় মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে গ্রেফতার অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) সামছুল হক সরকার। আহত এসআই সামছুল হক সরকারকে প্রথমে শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসালম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এসআই (উপ পরিদর্শক) সামছুল হক সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাসদাইর ঘোষের বাগ এলাকায় মাদক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী জাহিদকে গ্রেফতার করতে যায়। তাকে না পেয়ে ফিরে আসার সময় পেছন থেকে জাহিদের সহযোগিরা এসআই সামছুল হক সরকারের ডান হাতের কনুইর সামান্য নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ২ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো নাজমুল ও পলাশ। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাসদাইর ঘোষের বাগ গাইবান্ধা বাজার এলাকা শীর্ষ মাদক সম্রাট জাহিদ ও তার লোকজনের নিয়ন্ত্রনে। তারা সিসি টিভি ক্যামেরার সাহায্যে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। মাসদাইর বাজারে মাদক ব্যবসায়ী পোড়া কাকন এবং সেলিম কসাই ও রাসেল কসাইদের মাদক বিক্রির স্পট ছিল রিকশার গ্যারেজগুলোতে। তবে পোড়া কাকনের ভাই নয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের নেতা হওয়ার সুবাদে বিগত দিনে এলাকায় ছিল আধিপত্য। বিগত দিনে মাদক বিক্রি বন্ধে একাধিকবার র্যাব, পুলিশসহ প্রশাসনকে লিখিত আকারে জানালেও কোন ধরনের প্রতিকার হয়নি। মাদক সম্রাট পোড়া কাকনের বিরুদ্ধে ডজন খানেকের বেশি মামলা রয়েছে। জাহিদ, সেলিম, রাসেল, উজ্জলরাও একাধিক মামলার আসামী। সেলিম বর্তমানে হাবিব মিয়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানেও মাদকের স্পট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাসদাইর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘এলাকার সব দেয়াল তারা কালি দিয়া লিখে দিসে মাফিয়া বয়েজ। এটা হইল গ্রুপের নাম। ২০ থেকে ৩০ জন আছে গ্রুপে। কিন্তু তাদের লিডার অল্প কয়েকজন। এরা অনেক আগে থেকেই ব্যবসা করে আসছে। আমরা কখনোই তাদের নির্মূল করতে পারিনি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর উৎপাত আরো বৃদ্ধি পাইসে। জানিনা কিভাবে তাদের হাত থেকে আমরা মুক্তি পামু।’’
মাসদাইরের এক বাসিন্দা বলেন, স্কুলের বাচ্চাদের সামনে বিক্রি করতাছে। আমাদের বাচ্চারা কি শিখবো বলেন? ওরা তো ছোট থেকেই দেখতাছে কিভাবে লুকাইয়া লুকাইয়া ইয়াবা বেঁচে। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গেছি এদের দেখতে দেখতে। এখন অনেক বেপরোয়া হয়ে গেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়া বসে থাকে। সিসি ক্যামেরা লাগাইসে যাতে কেউ আসলে আগেই টের পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ যাতে তারা এদের কিছু একটা করে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় মাদক বিক্রেতারা বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তারা নিজেদের রক্ষার জন্য মাফিয়া বয়েজ নামে একটি কিশোর গ্যাংও লালন পালন শুরু করেছে। বর্তমানে তাদের হাতে ধারালো আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি দেখা মিলছে আগ্নেয়াস্ত্রের। যে কারণে মাসদাইরের শীর্ষ মাদক সম্রাট জাহিদ, পোড়া কাকন, কসাই সেলিম ও রাসেল ছাড়াও পর্দার আড়ালে থাকা তাদের শেল্টারদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি সাধারণ মানুষের।



































আপনার মতামত লিখুন :