নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পুকুর জেলা পরিষদ কর্তৃক অবৈধভাবে ইজারা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলাধীন লাঙ্গলবন্দ ডাকবাংলো সংলগ্ন ‘বড় পুকুর’ হিসেবে পরিচিত জলাশয়টি স্থানীয় বাসিন্দা মৃত দুদু মিয়ার ছেলে মো. রিয়াদ হোসেনের দাদা বাবর আলীর নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি। জমির সি.এস, এস.এ ও আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী এটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
জমির রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য: দাগ নং: সি.এস-৬২২, আর.এস-৮৯০। খতিয়ান নং: সি.এস-১৮৮, এস.এ-২৪২ এবং আর.এস-২৩৬।
ভুক্তভোগী রিয়াদ হোসেন জানান, সি.এস থেকে শুরু করে আর.এস পর্যন্ত প্রতিটি রেকর্ডে সম্পত্তিটি তার দাদা বাবর আলীর নামে রয়েছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে ওয়ারিশসূত্রে এই পুকুরটি ভোগদখল করছেন এবং সেখানে নিয়মিত মাছ চাষ করে আসছেন।
অভিযোগ উঠেছে, গত ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ উক্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে ইজারা প্রদানের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। মালিকপক্ষের দাবি, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খাস বা সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনবহির্ভূত।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
নিজের আইনগত অধিকার রক্ষায় মো. রিয়াদ হোসেন গত ৫ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং: ৩৭/২০২৬। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
ভুক্তভোগী রিয়াদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুগ যুগ ধরে এই পুকুরটি আমাদের পরিবারের দখলে। আমাদের কাছে সব বৈধ দলিল ও রেকর্ড থাকার পরেও জেলা পরিষদ জোরপূর্বক এটি ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি আমাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।


































আপনার মতামত লিখুন :