নারায়ণগঞ্জ জামায়াত ইসলামীর সাথে বিকেএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেমের সুসম্পর্কের কথা এবার নির্দিধায় প্রকাশ করলেন মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে তার দেয়া সাক্ষাৎকারে হাতেম সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেন। সেই সাথে এনসিপিরও সমালোচনা করেন হাতেমের পক্ষ নিয়ে। এই ভিডিও প্রকাশ হতেই জেলাজুড়ে আলোচনা তৈরী হয়েছে।
গত ৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় জামায়াতের একটি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হয়ে মোহাম্মদ হাতেমের সাথে একই মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান এনসিপি থেকে নির্বাচিত এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। এসময় তিনি তাকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দেন। ঘটনার পরপরেই হাতেম উঠে বেরিয়ে যান এবং তার লোকজন ও ব্যবসায়ীদের জড়ো করে আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে এমপিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এসময় এনসিপির কয়েকজন কর্মী বিএনপি নেতা রাসেল ও তার অনুসারীদের হাতে হামলার শিকার হয়ে আহত হন।
সম্প্রতি সেই ঘটনার বিষয়ে জামায়াত মহানগরের আমীর আবদুল জব্বার বলেন, ‘বিসিকে একটা ইফতার মাহফিল ছিল পেশাজীবিদের। বিসিক এরিয়া হওয়ার কারণে জামায়াতের লোকজন মোহাম্মদ হাতেমকে দাওয়াত দেয়। হাতেম সাহেব ফ্যাসিস্টের দোসর সেই বিষয়টা আমরা সেভাবে কখনও চিন্তা করিনি বা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়নি। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে হাতেম ফ্যাসিবাদের দোসর। আমরা তো কিছুদিন আগে দেখলাম যে এনসিপির নেতৃবৃন্দ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জন্য ফান্ড তাদের কাছ থেকে নিয়েছেন। সেসময় তিনি ফ্যাসিস্ট হলেন না, এখন হটাৎ করে তিনি ফ্যাসিস্ট হয়ে গেলেন।
আবদুল জব্বার বলেন, সেদিন আমি আমার জায়গা থেকে যতটা জানতাম যে হাতেম ভাই অনুষ্ঠানে আসবেন না। পরে জানতে পেরেছি মাওলানা মাঈনুদ্দিন সাহেব তাকে দাওয়াত দিয়েছেন। সেই বিষয়টা আবদুল্লাহ আল আমিনও জানতেন। এনিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আল আমিন সাহেব তার দলীয় অবস্থান শো করেছেন। এরপরে হাতেম সাহেব তার অবস্থান থেকে নিজের অ্যাকশন ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।
হাতেমকে ফ্যাসিস্ট বলার সুযোগ নেই দাবী করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা একটা পীসফুল নারায়ণগঞ্জ চাই। এখানে ব্যবসাও লাগবে, রাজনীতিও লাগবে। এনসিপি যেহেতু আমাদের সহযোগী ছিলো। তাদের সাথে আমাদের যেমন যোগাযোগ আছে, ব্যবসায়ীদের সাথেও আমাদের যোগাযোগ আছে। যারা ফ্যাসিবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলো তাদেরকে আমাদের সাথে আনার কোন কারণ নাই। আমাদের কাছে এমন কোন তথ্য ছিল না যেই কারণে তাকে ফ্যাসিস্ট বলা যায়। আমাদের ব্যক্তি সম্পর্কের কারনেই তাকে দাওয়াত দিয়েছে আমাদের নেতৃবৃন্দ। আল আমিনের সাথে আমাদের হাতেম সাহেবের কি সুসম্পর্ক বা দুঃসম্পর্ক সেটা তারাই বলতে পারবে।’
তার এমন মন্তব্যে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন তবে কি এনসিপির সাথে জামায়াতের দূরত্ব বাড়ছে কিনা? কিংবা এনসিপির উত্থানে জামায়াত নিজেদের অবস্থান নিয়ে শংকিত কিনা? অন্যথায় একই জোটভুক্ত দলের এমপির অবস্থানের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান জামায়াত নেতা তৈরী করায় জোটের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট করে তোলে। যা পারস্পরিক বিশ্বাসেও চিড় ধরায়।





































আপনার মতামত লিখুন :