News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

মুক্তির এক বছরেও গতিহারা জাকির খান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম মুক্তির এক বছরেও গতিহারা জাকির খান

বিভিন্ন মামলায় সাজা শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কারাগার থেকে মুক্তি পান জেলা ছাত্রদলের আলোচিত সাবেক সভাপতি জাকির খান। এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আর কোন পদ পাননি। বরং বিনা পদে মহানগর বিএনপি নেতা হিসেবে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত নেতা হিসেবে নিজেকে ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠিত করেছেন সমর্থকদের মাঝে।

মুক্তির পর কেন্দ্রীয় তিন নেতাকে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন জাকির খান। এরপর একাধিকবার শহরে শো-ডাউন করলেও সাধারণ মানুষ তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেনি। বরং বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ে জাকির খানে বিরোধী অবস্থানে গুঞ্জন রয়েছে। তার পাশাপাশি বিশাল হোন্ডা ও কর্মী বাহিনীতে এখনো আতংকে থাকে বিভিন্ন শ্রেণী মানুষেরা।

নির্বাচনের আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন উঠলে পরবর্তিতে দেখা যায়নি নির্বাচনের মাঠে। এদিকে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য তোড়জোড় আলোচনা শোনা গেছে সমর্থকদের মাঝে।

২০০৩ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালে অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানের আগে ব্যবসায়ী সাব্বির আলম খন্দকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, তার দুই ভাই জিকু খান ও মামুন খান সহ একাধিক নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে জাকির খান দেশের মাটিতে পা রাখেনি প্রায় ১৯ বছর। ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকির খানকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই মামলায় ২০২৩ সালের ১৫ জুন কারাগারে বন্দি অস্ত্র মামলায় জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর ২০২৪ সালের ১২ মে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

২৪-এর ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর দীর্ঘ দিনের অপরাধ থেকে মুক্ত পাওয়া আশা জাগে জাকির খানের। ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় ২২ বছর পর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানসহ সকল আসামিকে খালাস দেয় আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মমিনুল ইসলাম সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন। খালাসে আরো জানা হলেন, জাকির খানের দুই ভাই জিকু খান ও মামুন খান, তার সহযোগী জঙ্গল ওরফে লিটন, মোক্তার হোসেন, মনিরুজ্জামান শাহীন, নাজির আহমেদ ও আব্দুল আজিজ। তাদের মধ্যে মনিরুজ্জামান শাহীন মারা গেছেন।

অন্যত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তিন মাস পর গত বছর ১৩ এপ্রিল ৩৩ মামলার মধ্যে ৩২টিতে খালাস একটিতে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন জাকির খান। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বিশাল নেতাকর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে শহরজুড়ে শোডাউন করেন তিনি। ওই সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী এমন আলোচিত মহড়ায় বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ ফোরকান ওয়াহিদ বলেন, সন্ত্রাস বিরুদ্ধে একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার মেয়াদ শেষ হলে জাকির খানকে মুক্তি দেয়া হয় ।

কারামুক্ত হয়ে জাকির খান বলেন, আমি ওয়াদা করছি, তারেক রহমানের ৩১ দফা আমরা বাস্তবায়ন করবোই। আর ফিলিস্তিনে মুসলিম উম্মাহর ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তার প্রতিবাদ না করলে আমরা মুসলমানই না। এক বছরে জাকির খান একাধিক শো-ডাউন করলেও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তাকে এখনো ঠাঁই পায়নি। যার কারণে এখনো বিএনপিতে সমালোচিত রয়েছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি একাধিক নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির কোন পদে না থাকলেও গত এক বছরে জাকির খান ও তার পরিবারের সকল সদস্যরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। যারা বিগত ১৯ বছর আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলন করে যে সুযোগ-সুবিধা পায়নি তার চেয়ে বেশি পেয়েছেন জাকির খান। বিশাল গাড়ী বহর, ভাই সন্তান ও কর্মী সমর্থকদের কাছে অত্যাধুনিক গাড়ী দেখা গেছে, ইতোমধ্যে হাইকমান্ডে সমালোচিত হয়েছেন।