নারায়ণগঞ্জের জনগণের সামনে আজ এক কঠিন ও উদ্বেগজনক বাস্তবতা দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এমন একটি সংকটের মুখোমুখি, যেখানে একটি মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় সেই জীবন ঝরে যাচ্ছে।
ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক, বিশেষ করে এসটিইএমআই এমন একটি জরুরি অবস্থা যেখানে একজন রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য হাতে থাকে মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টা যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “গোল্ডেন টাইম” বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে যদি ব্লক খুলে দেওয়ার জন্য জরুরি রিং পরানোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, নারায়ণগঞ্জ শহরে এখনো ২৪ ঘণ্টা চালু এমন কোনো ক্যাথল্যাব নেই, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে এই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। ফলে রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে এই গুরুত্বপূর্ণ সময় শেষ হয়ে যায়, এবং আমরা হারাচ্ছি অসংখ্য মূল্যবান প্রাণ।
আজ আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই; নারায়ণগঞ্জের মানুষের জীবন কি ঢাকার মানুষের চেয়ে কম মূল্যবান? আমরা উন্নয়নের নানা গল্প শুনছি, বড় বড় প্রকল্পের উদ্বোধন দেখছি। কিন্তু মানুষের জীবন রক্ষার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো উপেক্ষিত। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয় এটি একটি মানবিক সংকট। এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জে অবিলম্বে ২৪/৭ ক্যাথল্যাব চালু করতে হবে। সকল হাসপাতালে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে হবেদ্রুত ও কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স ও রেফারাল সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে প্রতিটি হাসপাতালে ২৪/৭ ঘণ্টা ইজিসি সুবিধা চালু রাখতে হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া নয়, এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
এই অধিকার থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে বঞ্চিত করা হবে কেন? আজ যারা দায়িত্বে আছেন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে আমাদের সরাসরি প্রশ্ন; আর কত প্রাণ গেলে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আমরা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই। মানুষের জীবন নিয়ে আর কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না।
লেখক : প্রথম যুগ্ম আহবায়ক এনসিপি।










































আপনার মতামত লিখুন :