ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড যেন দিন দিন ‘ভয়ংকর’ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে। প্রায় সময়ই রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এই দুর্ঘটনায় কখনও প্রাণহানি আবার কখনও অঙ্গহানি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষজনকে। আর রাতের বেলা পুরো সড়কজুড়েই অন্ধকার হয়ে থাকছে। ফলে রাতের বেলা সড়কটি ছিনতাইকারীদের জন্য অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে উঠে।
জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পরিষদের সামনের অংশ সহ সড়কের একাধিক এলাকা রাত হলেই ঘন অন্ধকারে ডুবে যায়। সড়কের মাঝখানে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও অধিকাংশ বাতি অচল থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, সড়কবাতির বৈদ্যুতিক তার চুরিই এর মূল কারণ। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিয়মিতভাবে এই চুরির সঙ্গে জড়িত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুনে সড়কবাতির সংযোগ দেওয়ার মাত্র অল্প দিনের মাথায় তার চুরি শুরু হয়। এরপর বারবার নতুন তার স্থাপন করা হলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা আবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে মোট ৭৪৮টি সড়কবাতি রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বহু স্থানে বাতি অচল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো নিয়মিত অন্ধকারে ডুবে থাকছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জননিরাপত্তায়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অন্ধকার অংশগুলোতে মাদকের আখড়া চুরি, ছিনতাই ও সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্য দিনের ঘটনা। জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা আওরঙ্গজেব লাবলু বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ইউটার্নে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। রাতে সড়কবাতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে এমন পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে কয়েকদিন পরপরই এই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সড়ক দূর্ঘটনার ঘটছে। প্রয়োজনীয় ফুটওভার ব্রীজ না থাকায় জনসাধারণের রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গাড়ির নিচে চাপা পরে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছেন। সবমিলিয়ে রাস্তাটি যেন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি নিয়মিত আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু তার মেরামত বা প্রতিস্থাপন নয়, চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের দোরগোড়ায় এমন অন্ধকার শুধু সড়ক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাই নয়, এটি নগর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।



























-20260522173818.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :