ইট পাথরের শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল উন্মুক্ত ও সবুজে ঘেরা উদ্যান। কিন্তু স্বর্ণের চেয়ে এক টুকরো জমি যেখানে কোটি টাকা সেখানে এ প্রত্যাশা ছিল ‘দুঃস্বপ্ন’। কিন্তু সেই দুঃস্বপ্নকেও বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শহরের মাদকাসক্ত আর অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জিমখানা বস্তি উচ্ছেদ করে দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ করেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সেই পার্কটি এখন ফের অপরাধের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
নারায়ণগঞ্জ দেওভোগ ও জিমখানা ঘিরে নগর পার্কটি (আগে ছিল শেখ রাসেল নগর পার্ক) ছিনতাইকারীদের দখলে রূপ নিয়েছে। পার্কে ঘুরতে আসা বিভিন্ন বয়সীরা প্রতিনিয়ত ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে। সবশেষ ১৮ মে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে সাইকেল নিয়ে যাওয়া যুবককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একদল ছিনতাইকারী ছিনতাই করতে।
এর আগে আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সাদা শার্টে এক যুবককে থামিয়ে শাসানো হচ্ছে। দুই ছিনতাইকারী মধ্যে এক যুবকের হাত প্যান্টের পকেটে রেখে টাকা পয়সা মোবাইল সম্ভবত চাইছেন। এতে দুইজনদের মধ্যে তর্কে রূপও দেখা গেছে আরেক ছবিতে।
প্রায় ১৮ একর জমির উপর গড়ে উঠা লেকের চারপাশে ওয়াকওয়ে, স্ট্রীট লাইট, সিটিং পেভেলিয়ন ও পরিবেশ বান্ধব সবুজ গাছ-পালা রোপণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের অবসর সময় কাটানোর জন্য ৪টি ভিউইং ডেক ও ৬টি ঘাটলা রয়েছে। যে কোন ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ আছে।
পার্ক বর্তমানে জিমখানা সড়কের অংশে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সেখানে দিনে-দুপুরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে দর্শনার্থীরা। একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সেখানে দর্শনার্থীর বেশে অবস্থান করে। সুযোগ বুঝে লুটে নেয় দর্শনার্থীদের মোবাইল ও টাকা পয়সা।
জানা গেছে, প্রতিদিন এমন ৩/৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এর আগে দর্শনার্থী তিন বন্ধুর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ২টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা এমন অভিযোগ রয়েছেন। মেয়র আইভী থাকালে তার স্বজনরা এই পার্কটি দেখাশোনা করতেন। তিনি গ্রেপ্তারের পর আর কেউ দেখভাল করে না।
গত বছর ছিনতাই ঘটনার শিকার সারফারাজ সিয়াম নামে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে আরেফিন, বিপুল ও নাঈম নামে তিন বন্ধু রাসেল পার্কের পিছন দিক দিয়ে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করে ছবি তোলার জন্য। ভেতরে ঢুকে তারা ৪ থেকে ৫টি ছবি তুলে একই পথ দিয়ে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে দর্শনার্থী বেশে তিন ছিনতাইকারী তাদের ডাক দেয়। তারা কাছে আসতেই আরও তিন ছিনতাইকারী আসে। তাদের হাতে ধারালো চাকু সুইস গিয়ার ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগে ছিনতাকারীরা তিন জনের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তারা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেও পিছিয়ে যায়। কারণ ছিনতাইকারীদের হাতে ধারালো চাকু ছিল।
সম্প্রতি এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নগর পার্কের অপরাধের বিষয়টি আমরা জেনেছি। সেখানে প্রবেশ কিংবা নিরাপত্তার ঘাটতি আছে। অচিরেই এখানে প্রবেশে টিকেট সিস্টেম সহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।


































আপনার মতামত লিখুন :