নারায়ণগঞ্জে আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন করতে দেখা গেছে তাদের। একইসঙ্গে ফতুল্লার পঞ্চবটি, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মসূচির নামে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছে তারা। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সবশেষ ফতুল্লায় মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একই দিন সকালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দুইদিন আগে কাঁচপুর সেতুর উপরেও মিছিল হয়। যুবলীগের নেতাকর্মীরা পঞ্চবটিতে মিছিল করেন।
এক কথায় আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীদের তৎপরতা থেমে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে অভিযোগ রয়েছে পুলিশের নির্বিকার আচরণের। অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসা বাড়ি থেকে বিনা অপরাধে ধরে আনতে পারলেও এখন অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ধরতে অনিহা দেখাচ্ছে পুলিশ।
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, পুলিশের উদাসীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফের মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কোন কোন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের শেল্টারে নিরাপদে ছিলো আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বর্তমানে সেই নিরাপদে থাকা কর্মীরা বিদেশ থেকে অর্থের বিনিময়ে শুরু করেছে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতি।
২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর শহরের দুই নং রেল গেটস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। টিন দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে প্রবেশ পথ।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাত কিংবা ভোরে হঠাৎ করে মিছিল বের করছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেছে নিচ্ছে খালি ও নির্জন সড়ক। যাদের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ফতুল্লার স্টেডিয়াম থেকে জালকুড়ি পর্যন্ত সড়ক এবং পঞ্চবটি এলাকা। মিছিল শেষে দ্রæত এলাকা ত্যাগ করে তারা। কখনও ঝটিকা মিছিল আবার কখনও মশাল মিছিল বের করে তারা। সেই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারছে তাদের কর্মকান্ডের খবর। এভাবে প্রকাশ্যে বিচরণ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
ফতুল্লার এক বিএনপি নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই আওয়ামী লীগের লোকজন হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। বাসা বাড়িতে থাকতে দেয়নি। অথচ এখন তারা বেশ আরামেই আছে। নিজেদের বাসায় থাকতে পারছে, কাজ কর্ম করে চলতে পারছে। নিরাপদে থাকার পর এখন তারা আমাদের উপর নাশকতা করারও সুযোগ পাচ্ছে। পুলিশ যদি কঠোর অবস্থানে না যায় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
একই অভিযোগ করেছেন জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতারাও। তারা বলেন, প্রশাসনের নিরব ভ‚মিকার কারণেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সেই সাথে বিএনপির কিছু লোকজন শুরু থেকেই অর্থের বিনিময়ে শেল্টার দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। সেই সাথে জামিন বাণিজ্য করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে এখন মাঠে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর যেই জুলুম অত্যাচার চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। তা থেকে শিক্ষা না নিলে ফের আবারও একই ধরণের অত্যাচারের শিকার হবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ফলে তারা সংগঠিত হলে তা বিপদ হবে সকলের জন্যেই।






































আপনার মতামত লিখুন :