News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আসে না কেউ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আসে না কেউ

২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের ৫৫জন শহীদের স্মরণে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয় গত বছর ১৪ জুলাই। হাজীগঞ্জ মোড়ে সেই উদ্বোধনে অন্তবর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টা এসেছিলেন। ২১ জনের নাম বিশেষভাবে স্মৃতিস্তম্ভে নিহতের পরিবারের সদস্য কয়েকটি কর্মসূচী অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে স্মরণীয় নারায়ণগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আসে না কেউ।

জানা গেছে, আগামী ১৪ জুলাই এনসিপির নারায়ণগঞ্জ পদযাত্রা করতে যাচ্ছে। সেই কর্মসূচীতে সোনারগাঁয়ে সেই সমাবেশ করে মুন্সিগঞ্জ উদ্দেশ্যে যাবে বলে জানিয়েছে এনসিপি।

দুই বছর অতিক্রম হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে ট্রাজেডি। ২৪ এর জুলাই ১২ জুলাই থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জের ছাত্র–জনতাও প্রাণপণ লড়াইয়ে নেমেছিল রাজপথে। লাগাতার আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও নগরীর বিবি রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী নেতাকর্মীরা ছাত্রজনতার উপর ভয়ংকর মারণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৫ জন, আহত হন ৩৭০ জন। নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা। শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

শহীদদের হত্যা বিচার দ্রুত সময়ে করার বার্তা দেন অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। কিন্তু সেই আশ^াস গত এক বছরে বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে গত বছর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ আদিলের মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমার ছেলে অনেক মেধাবী ছিল। সে বেঁচে থাকলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিত। কয়েক দিন আগে যে এসএসসির রেজাল্ট বের হয়েছে, আদিল বেঁচে থাকলে রেজাল্ট হাতে নিয়ে মাকে দেখাতে আসত। কিন্তু ফ্যাসিস্টদের গুলিতে আমার ছেলে মারা গেছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। এছাড়াও শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টারা পরিবেশ রক্ষায় গাছের চারা রোপণ করেন।

গত বছর ৫ আগষ্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ পরিবার ও জেলা প্রশাসন শ্রদ্ধা নিবেদন দেয়া পর আর কেউ আসেনি। বর্তমানে বিশৃঙ্খলা রোধে স্মৃতিস্তম্ভটি নিরাপত্তা পুলিশের ক্যাম্প দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।