News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে আন্দোলন, তদন্ত হলে মুখোশ উন্মোচন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:২১ পিএম ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে আন্দোলন, তদন্ত হলে মুখোশ উন্মোচন

জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদরাসার শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই মাদরাসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে। মাদরাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

মাদরাসার কমিটি ও এলাকাবাসী চাচ্ছেন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদীকে তার পদে বহাল রাখতে। কিন্তু মাদরাসার একটি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ চাচ্ছে মাওলানা আবু তাহের জিহাদীকে প্রিন্সিপাল পদ থেকে সড়িয়ে দিতে। তারা মুফতি হারুন অর রশিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১ জুলাই রাতে মাদ্রাসা কমিটির হেদায়েতউল্লাহ খোকন জানিয়েছেন যে আবু তাহের জিহাদী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে মাদরাসা প্রাঙ্গণে মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা দাবি তুলেন দফা এক দাবি এক জিহাদীর পদত্যাগ। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন সহ মাদ্রাসার অভ্যন্তরে দেয়ালে জিহাদী হুজুর এর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের সকল আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে প্রিন্সিপালের পদত্যাগ করতে হবে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদী।

তিনি আন্দোলনের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, মসজিদ মাদ্রাসার একই কমিটি। মসজিদের ইমাম হারুন সাহেবের অবস্থা জানার পর ফুল কমিটি মিলে হারুন সাহেবকে মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাকে অব্যাহতি দেয়ার পর হারুন এবং তার অনুসারীরা ফেরদাউস এবং মনির কাসেমী এদের সহযোগিতায় জমিয়তের লোকাল কিছু ছেলে আন্দোলনকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এই সমস্যার সমাধান করার জন্য জাকির খান সাহেব আসছিলেন। তিনি বলেছিলেন তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ছাত্রদের বলেছিলেন তোমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাও।

ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হারুনকে বহিস্কারের পর নতুন ইস্যু তৈরি করা হয়েছিলো। সেটা হলো ৫ জন শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়ার নথিপত্র তৈরি করেছি আমি। কিন্তু এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য এইরকম বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিলো। কয়েকটি প্যাড প্রদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষককে প্রিন্সিপাল একা অব্যাহতি দিতে পারে না। অব্যাহতি দিতে হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হয়। শিক্ষকের মিটিংয়ে অনুমোদন হয়। তারপর কমিটি অনুমোদন দেয়। এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষককে প্রিন্সিপাল একা অব্যাহতি দেয় নাই দেয়ার সুযোগও নেই। কোমলমতি ছাত্রদের ভুল বুঝানো হয়েছে। ৫ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষকরাও এখানে ভুল বুঝেছে। এখন মক্তবের শিশুগুলিকে ক্লাস থেকে বের করে মাঠে আন্দোলনে নামিয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।

পুরো ঘটনার তদন্ত দাবী করে আবু তাহের জিহাদী বলেন, আমি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আসল রহস্য উদঘাটনের দাবী করছি। এটা একটা ভিত্তিহীন ভুল প্রোপাগান্ডা সাজানো এব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করি। ছাত্রদের ভুল ব্যবহার করা হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে বের করা দেয়া হবে এই মর্মে। কিন্তু যুক্তির নিরিখে এটা টিকে না। আমরা মনে হয় এটা বানানো প্যাড। কিন্তু তদন্ত হওয়ার আগেই এটার সমাধান চাই এরকম আন্দোলন করা হচ্ছে। কারণ তদন্ত হলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। তদন্ত হলে যারা এটা নিয়ে খেলছে তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাবে এজন্য তদন্ত ছাড়াই ফয়সালা করতে হবে। তারা সকল দাবী বাদ দিয়ে এখন প্রিন্সিপালের অপসারণ চাই। কিন্তু আমি আগেই পদত্যাগ দিয়েছিলাম। কিন্তু কমিটি মহল্লাবাসী খান সাহেব এটা গ্রহণ করে নাই। আমি তদন্ত চাই। তদন্তের রিপোর্ট চাই।

মাদরাসায় জামায়াত শিবিরের কমিটি নাই বরং জমিয়তের লোক আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো কমিটি নাই। জামায়াত শিবিরের একটি লোকও আমি খুঁজে পাই নাই। আমি সকল ছাত্রদের একত্র করে বলেছিলাম জামায়াত শিবিরের কমিটি আছে এমন তথ্য থাকলে আমাকে দাও। আমি দেখবো। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী আমি ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারি। কওমী মাদ্রাসাগুলো জামায়াত শিবিরের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে এই হাতিয়ার কিংবা ট্যাগ লাগিয়েছে। বরং জমিয়তের হারুন সাহেব এখানে আছেন।

পুরানো বিষয়কে নতুন করে ইস্যু বানাচ্ছে উল্লেখ করে জিহাদী বলেন, জমিয়তের একজন দায়িত্বশীল আছে মেরাজ বিন হারুন। তিনি দুই বছর আগে আজীবনের জন্য বহিস্কার হয়েছিলো। দুইজন শিক্ষক বহিস্কার হয়েছিলো তাদের অপরাধের কারণে। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ ছিলো। তাকে কমিটির মাধ্যমে রেজুলেশনের মাধ্যমে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিলো। এগুলোকে এখন ইস্যু করা হয়েছে। আরেকজন শিক্ষক মাওলানা ইকরামকে অভিযোগের ভিত্তিতে বহিস্কার করা হয়েছে। এখন তার ছেলেরা আন্দোলন করছে।

মুফতি হারুন অর রশিদকে মসজিদ থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কি কারণে সরিয়েছে এটা কমিটি বলতে পারবে। তবে আমি এলাকাবাসীর কাছে শুনেছি; তিনি মসজিদের ইমাম কিন্তু তাকে নামাজে পাওয়া যায় না শুক্রবার ছাড়া। নামাজ ছাড়া মুসল্লিরা আন্তরিক নয়। মহল্লার ৯৯ ভাগ লোক তার পিছনে নামাজ পড়তে রাজী নয়। কিন্তু তিনি এলাকার ছেলে। সেই প্রভাব কাটিয়ে ইমামতি করে যাচ্ছিলো। তার মেজাজে উগ্রতা। তিনি দলীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চান। সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। যার কারণে কমিটি এসকল বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার রেজাল্ট ভালো না। তিনি প্রিন্সিপাল হওয়ার যোগ্য না। তার চেয়ে অনেক যোগ্য শিক্ষক এখানে রয়েছে। 

ছাত্রদেরকে ২০০ টাকা করে দিয়ে নৌকার মিছিল করিয়েছে মর্মে মাওলানা আবু তাহের জিহাদী বলেন, ফেরদাউস হারুন তাদের সাথে আমার মাখামাখি নাই। অনেক লোকজন আমাকে এদের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। আমি সতর্কতার সাথে তাদের সাথে ভিড়েছি। আমি শুনছি এরা এরকম জাকির চেয়ারম্যানের প্রোগ্রামে আমাদের ছাত্রদেরকে ২০০ করে টাকা দিয়ে নৌকার মিছিল করিয়েছে। শামীম ওসমানের সাথে তাদের আসা-যাওয়া। আমাকে না জানিয়ে প্রত্যেককে ২০০ করে টাকা দিয়ে নৌকার দাবীতে মিছিল করেছে। এগুলো হলো তাদের কাজ। আমি এগুলো করতে দেয় নাই বলেই আমার আজকে এই অবস্থা।