নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এবং কাশিপুর এলাকায় আলোচিত সন্ত্রাসী শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ রীতিমত বিশাল বাহিনী নিয়ে এবার নিজের গ্রেপ্তার ঠেকাতে মাঠে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোন সংবাদ প্রকাশিত হলেই তার বাহিনীর সদস্যরা একযোগে ঝাঁপিয়ে পরে তাকে সাধু প্রমানে। সেই সাথে এবার এমপির বক্তব্যের পর পিঠ বাঁচাতে ভাড়াটে লোকজন নামিয়ে মানববন্ধন করিয়েছে শহীদ। যেখানে অর্থের বিনিময়ে লোকজন ডেকে এনে এমপি এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কথা বলানো হয়েছে।
শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের এমন বেপরোয়া আচরণের সাথে মিল পাওয়া যায় সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের সাবেক কাউন্সিলর ও সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সাথে। নূর হোসেন পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলে ছিলো একক ত্রাস। সেই এলাকার চাঁদাবাজি, ভুমিদস্যুতা, মাদক এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রক ছিলো নুর হোসেন। তবে এতবড় অপরাধী হয়েও বার বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতো। সেই সাথে নিজ অঞ্চলের গরীব অসহায় মানুষকে আর্থিক সাহায্য করে নিজের ভালোমানুষি প্রচার করে বেড়াতো। একদিকে চলতো অপরাধ কর্মকান্ড, আরেকদিকে দরিদ্র শ্রেনীকে আর্থিক সহায়তা করে তাদেরকে হাত করে রাখতো। যখনই নূর হোসেনের বিরুদ্ধে কথা উঠতো, তখনই সামনে এসে দাড়াতো অই অঞ্চলের দরিদ্র ও নিন্মবিত্ত শ্রেনিদের একটি অংশ।
ঠিক সেই প্রক্রিয়াতেই নিজের মাফিয়া গ্যাং চালাচ্ছে সাব্বির হোসেন শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ। পুরো কাশিপুর অঞ্চলের মাদক, ভুমিদস্যু, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে পুলিশের সামনে। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে থেকে প্রভাব বিস্তার করতো। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির কয়েকজন নেতাকে হাত করে রাতারাতি বিএনপি নেতা হিসেবে নিজেকে প্রচার করা শুরু করেছে। নিজের গ্যাং টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন স্থানে আর্থিক সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি রাশেদ নামে এক ট্রাক চালক ও মালিককে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় কুপিয়ে আহত করা হয় তাকে। কোনমতে পালিয়ে প্রাণ বাচায় রাশেদ। ঘটনার বর্ননা দিয়ে রাশেদ জানায়, সম্প্রতি ধার দেনা করে নিজে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। সেই থেকেই তার ট্রাকের উপর নজর পরে শহিদ গ্রুপের সদস্যদের। কৌশলে ডেকে এনে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সেই টাকা না দিলে তার ট্রাক তাদের নামে লিখে দিতে হবে অথবা দিতে হবে প্রাণ।
রাশেদ বলেন, স্ট্যান্ডের সেক্রেটারি শহীদের লোকজন আমার থেকে তারা ২০ লাখ চাঁদা চাইছে। টাকা না দিলে আমি কয়েকদিন আগে যেই ট্রাক কিনছি সেটা ওদের নামে লিখে দিতে হবে। নাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পালায়া হাসপাতালে আসছি। ওদের নাকি ৫০ লাখ টাকা লাগবো। এজন্য আমার মত চারজনকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করবে।
কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত জানতে চাইলে বলেন, শহীদের অনুসারী শুভ, শাহীন, আরাফাত, ইমরান, রাজীব সহ আরও কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। টাকা না পেলে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়, এবং আমার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দেয়। পুরো নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড এখন সন্ত্রাসের রাজত্ব হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনা সহ কাশিপুর অঞ্চলে ডিপিডিসির তার চুরি এবং একাধিক অপকর্মের জন্য শহীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। যা নিয়ে মুখ খুলেন এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে বলেন, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় বড় একটি সমস্যা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার অবনতি। এখানে একজনের নাম উল্লেখ করতেই হয় সেটা হচ্ছে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ গ্যাং। এই অপরাধীর নাম প্রতিনিয়ত পত্রিকায় পাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন স্টেপ নেয়া হচ্ছে না। প্রশাসন চাইলে বলতে পারে মিডিয়ায় যা বলছে তা মিথ্যা, আসলে উনি ভালো মানুষ। কিন্তু একজন ব্যক্তির বিষয়ে মাসের পর মাস অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠছে আর প্রশাসন যদি নীরব থাকে তখন প্রশাসনের উপর জনগনের আস্থা কমতে শুরু করে।
এর আগে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের শেল্টার দেয়া বন্ধে সাবেক কাউন্সিলর বিভাকে সতর্ক করা সহ কেউ যেন তাকে শেল্টার না দেয় সেই বার্তা দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ৩০ জুন নাসিক প্রশাসক এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর এমন তথ্য জানান বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে। এসময় সাবেক কাউন্সিলর বিভা হাসানকেও ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মূলত কেউ যেন শহীদের বিষয়ে সুপারিশ না করে এমন বার্তা পৌছান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি সুজন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের যানজট নিরসন কমিটির সদস্য। আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে সিটি করপোরেশন গিয়েছিলাম, তখন শুনেছিলাম প্রশাসক সাহেব ফোন করে বিভা হাসানকে বলছেন, 'তোমরা ডাকাত শহীদকে সেক্রেটারি বানিয়েছো কেন? তার বিরুদ্ধে নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে। তারে বাদ দিয়ে ভালো মানুষকে নিয়ে কমিটি বানাও।'




































আপনার মতামত লিখুন :