নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চাঁদমারীতে ডিশ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে কিলিং মিশনে ছিল দুইজন। এলাকায় রাতে চলাফেরা ও নেশা করতে বাধা দেয়াতে তাকে হত্যা করা হয়।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে প্রধান আসামী শরীফ জানান, নাসিরের ডিস ব্যবসার প্রতিষ্ঠানের নাম ফ্রেন্ডস ক্যাবল নেটওয়ার্ক। সে এলাকায় ত্রিশ বছর ধরে ডিস ব্যবসা করে। আমাদের সে মাঝেমধ্যে ধমক দিতো। রাতে এলাকাতে হাঁটাচলা করতে দেখলে ধমক দিতো। আমরা এলাকাতে নেশা পানি করতাম। সে এসব পছন্দ করতো না। আমরা ইয়াবা খেতাম। এজন্য ক্ষোভ ছিলো। গত ১৪ মে সেকশন বাড়ির মাঠে আমি এবং জুয়েল ৮ পিস ইয়াবা সালাউদ্দিনের কাছ থেকে কিনতে গিয়েছিলাম। তার কাছে ইয়াবা পাইনি। সালাউদ্দিন হলো ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা না পেয়ে আমরা ফ্রেন্ডস ক্যাবলের সামনে দিয়ে চলে আসতেছিলাম। মাউরা পট্টিতে ফ্রেন্ডস ক্যাবলের অফিস। সেখানে নাসিরকে দেখতে পাই। সে অফিসের মধ্যে ছিলো। সে অফিসের ক্যাবল তার নিয়ে কাজ করছিলো। তাকে দেখে আমি এবং জুয়েল আমার বাসায় যাই। বাসা থেকে চায়না ছুরি নিয়েছি। জুয়েলের পকেটে আগে থেকে সুইস গিয়ার চাকু ছিলো। আমরা নাসিরের অফিসে যাই। জুয়েল আগে অফিসে ঢুকে। নাসিরের সাথে কোনো কথাবার্তা হয়নি। জুয়েল এবং আমি সরাসরি আঘাত করি। প্রথমে জুয়েল সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে বুকে এবং পেঠে আঘাত করে। তারপর আমি চায়না চুরি দিয়ে বুকের নিচে আঘাত করি। প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় নাসির লুটিয়ে পড়ে। তারপর আমরা পালিয়ে যাই। সুইচ গিয়ার চাকু এবং চায়না ছুরি আমি অনলাইন থেকে ক্রয় করেছি।
এর আগে গত ১৪ মে চাঁদমারী মাউড়াপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে মো. নাছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনায় স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন শরিফ (৪০), জুয়েল (২০), আরিফ (৩০), সজিব (৩৬), শান্ত (২৮), নাঈম (২৫), মজিদ (৪২), আব্দুস সাত্তার বাবু (৫২), আবির (২৪) ও রুমি (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন। পরদিন পুলিশ এজাহারনামীয় সজিব, শান্ত, আরিফ ও নাঈম সহ ৪জনকে গ্রেফতার করে।
হত্যার ঘটনায় বিচার দাবীতে এলাকাবাসী আন্দোলন করে আসছিলেন। গত ২৪ জুন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবরোধ করে এই বিক্ষোভ করেছিলো।
এদিন প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় এই সড়ক অবরোধ করে রাখেন এলাকাবাসী। সেই সাথে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শরীফের ফাঁসি দাবী করে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. শামীম হোসাইন ও ফতুল্লা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবু আলম ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সেই সাথে এলাকাবাসী সড়ক ছেড়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে যান। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এই মানববন্ধনের পর জানা যায় কয়েকদিন আগেই আত্মসমর্পন করেছিল শরীফ। গত ৩০ জুন শরীফকে রিমা- শুনানীর জন্য আদালতে উঠানো হয়। সেই সাথে তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেয়ার পথে নিহত মো. নাছির উদ্দিনের এলাকাবাসী আসামী শরীফকে পুলিশের সামনেই হামলা করার চেস্টা করে।
এক পর্যায়ে আসামী শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যায়। আর এতেই বিক্ষুদ্ধ জনতা শরীফকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে। পরে আরও পুলিশ ও অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সেই সাথে তার রিমা- শুনানী হয় এবং আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমা- মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডের পর সে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।




































আপনার মতামত লিখুন :