২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের জুলাই আন্দোলনের সূচনার দিন ছিলো ১৪ জুলাই।
১১, ১২ ও ১৩ জুলাই যেইদিনগুলোতে ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা নির্ঘুম রাত কাটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের সমর্থন যুগিয়ে তা সংগঠিত করার কাজে। পরবর্তীতে ১৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জের অন্য সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভের ঘোষণা হয়। ওই দিন সকাল ১০ টায় শহীদ মিনারের বেদিতে বসে প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড লিখা শুরু করে। স্লোগানে বক্তৃতায় আন্দোলসকারীরা স্পষ্ট উচ্চারণ করেছিল কোনো বিভেদ-বৈষম্য নয়, আমরা চাই সুযোগের সমতা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে কাউকে অস্বিকার বা তাচ্ছিল্য নয় বরং প্রত্যেকের ন্যয্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
নারায়ণগঞ্জে প্রথম শহীদ মিনারের বেদির সামনে রঙ দিয়ে লেখা হয় 'কোটা সংস্কার চাই'। তারপর ছাত্ররা শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে সামনে মিছিল শেষে কর্মসূচী পালন করে।
১৪ জুলাই ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও ১৭ জুলাই ১৬ বছরের কিশোর আদিল প্রথম শহিদ হওয়ার পর তা চরম আকার ধারণ করে। ১৮ জুলাই চাষাঢ়া থেকে পুলিশের সাথে সংর্ঘষের জের ধরে পুরো শহর তান্ডব চলে। পরদিন শামীম ওসমানের নেতৃত্বে পুরো শহরে গোলাগুলি হয়, এতে শিশু রিয়া গোপ সহ অনেকে মারা যান এবং আহত হন।
শহরে বিক্ষোভ চললেও সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে রণক্ষেত্র করে ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশ-আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পূর্ব পর্যন্ত সহিংসতায় এখানে ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। নারায়ণগঞ্জের এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রধান মাইলফলকগুলোর মধ্যে রয়েছে।
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে গত বছর ১৪ জুলাই দেশের প্রথম 'জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ' নির্মাণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জে। ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।




































আপনার মতামত লিখুন :