News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ডাকাত শহীদকে গ্রেপ্তারের দাবী এমপির


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম ডাকাত শহীদকে গ্রেপ্তারের দাবী এমপির

নিতাইগঞ্জ ও কাশিপুর এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।

রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এই দাবী জানান তিনি।

এদিন এমপি আল আমিন বলেন, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় বড় একটি সমস্যা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার অবনতি। এখানে একজনের নাম উল্লেখ করতেই হয় সেটা হচ্ছে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ গ্যাং। এই অপরাধীর নাম প্রতিনিয়ত পত্রিকায় পাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন স্টেপ নেয়া হচ্ছে না। প্রশাসন চাইলে বলতে পারে মিডিয়ায় যা বলছে তা মিথ্যা, আসলে উনি ভালো মানুষ। কিন্তু একজন ব্যক্তির বিষয়ে মাসের পর মাস অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠছে আর প্রশাসন যদি নীরব থাকে তখন প্রশাসনের উপর জনগণের আস্থা কমতে শুরু করে।

এর আগে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের শেল্টার দেয়া বন্ধে সাবেক কাউন্সিলর বিভাকে সতর্ক করা সহ কেউ যেন তাকে শেল্টার না দেয় সেই বার্তা দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ৩০ জুন নাসিক প্রশাসক এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর এমন তথ্য জানান বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে। এসময় সাবেক কাউন্সিলর বিভা হাসানকেও ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মূলত কেউ যেন শহীদের বিষয়ে সুপারিশ না করে এবং তার অপকর্মের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগীতা করা হয় এমন বার্তা পৌছান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি সুজন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের যানজট নিরসন কমিটির সদস্য। আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে সিটি করপোরেশন গিয়েছিলাম, তখন শুনেছিলাম প্রশাসক সাহেব ফোন করে বিভা হাসানকে বলছেন, তোমরা ডাকাত শহীদকে সেক্রেটারি বানিয়েছো কেন? তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে। তারে বাদ দিয়ে ভালো মানুষকে নিয়ে কমিটি বানাও।

সূত্র বলছে, সাব্বির আহমেদ শহীদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উঠা চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। নিতাইগঞ্জে শহীদ ও তার অনুগামীরা শ্রমিক ইউনিয়নের আড়ালে গড়ে তুলেছে টর্চার সেল এমনটিই অভিযোগ এক ভুক্তভোগীর। গতমাসে টর্চার সেল থেকে পালিয়ে বেঁচে ফেরা অপহৃত ট্রাক মালিক রাশেদের ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। হাসপাতালের বিছানায় আহত অবস্থায় নিজের উপর চলা অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ট্রাক মালিক রাশেদ।

ঘটনার বর্ননা দিয়ে রাশেদ জানায়, সম্প্রতি ধার দেনা করে নিজে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। সেই থেকেই তার ট্রাকের উপর নজর পরে শহিদ গ্রুপের সদস্যদের। কৌশলে ডেকে এনে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সেই টাকা না দিলে তার ট্রাক তাদের নামে লিখে দিতে হবে অথবা দিতে হবে প্রাণ।

রাশেদ বলেন, স্ট্যান্ডের সেক্রেটারি শহীদের লোকজন আমার থেকে তারা ২০ লাখ চাঁদা চাইছে। টাকা না দিলে আমি কয়েকদিন আগে যেই ট্রাক কিনছি সেটা ওদের নামে লিখে দিতে হবে। নাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পালায়া হাসপাতালে আসছি। ওদের নাকি ৫০ লাখ টাকা লাগবো। এজন্য আমার মত চারজনকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করবে।

কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত জানতে চাইলে বলেন, শহীদের অনুসারী শুভ, শাহীন, আরাফাত, ইমরান, রাজীব সহ আরও কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। টাকা না পেলে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়, এবং আমার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দেয়। পুরো নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড এখন সন্ত্রাসের রাজত্ব হয়ে উঠেছে।

শহীদ, সবুজ ও বাপ্পীর বিরুদ্ধে কাশিপুর, বাবুরাইল, মাসদাইর, নিতাইগঞ্জ, শহীদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। ভুক্তভোগীরা নীরবে মুক্তিপন দিয়ে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসতো। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সাহস পেত না। এবারই স্ট্যান্ডের একজন ভুক্তভোগী মারধরের পর পালিয়ে মুক্তি পেয়ে অপহরণের খবর প্রকাশ্যে আনে।

শুধু অপহরণই নয়, এই অত্র অঞ্চলের পুরো মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই শহীদ - সবুজ - বাপ্পী গ্যাং। এরা অতীতে শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমানের ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে তুলে অপরাধের রাজত্ব। ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি তারা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিএনপি নেতা রূপ ধারণ করেছে। আর চালাচ্ছে রামরাজত্ব।