News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

নাসিকের বাজেট : উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম নাসিকের বাজেট : উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ

একসময় ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ নামে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ছিল দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই নগরী সম্ভাবনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বহন করে চলেছে নানা নাগরিক সংকট। যানজট, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, দখল হওয়া ফুটপাত, মশার উৎপাত, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ এসব সমস্যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে সেসবের সুফল কতটা মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পর প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার দিকে তাকিয়ে আছেন নগরবাসী। কারণ দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী গড়ে তোলার প্রত্যাশা এখন তার কাঁধে।

সেই প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায় গত ৩০ জুলাই, যখন তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট। বাজেটে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নগর অবকাঠামো সম্প্রসারণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বড় বাজেটের সঙ্গে বড় স্বপ্নও দেখানো হয়েছে নগরবাসীকে।কিন্তু বাজেটের আকার যত বড়ই হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষের মূল্যায়ন নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।

অতীতের অভিজ্ঞতায় নগরবাসী দেখেছেন, অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, আবার অনেক প্রকল্প সময়মতো শেষ হয়নি। ফলে এবারও প্রশ্ন উঠছে ঘোষিত বাজেট কি বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি এটি কেবল উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার তালিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রথমেই গুরুত্ব পাবে তাদের প্রতিদিনের ভোগান্তির বিষয়গুলো। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান, যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা, দখলমুক্ত ফুটপাত, নিয়মিত মশক নিধন, পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক গতিশীলতারও প্রয়োজন রয়েছে।বড় বাজেট মানেই বড় দায়িত্ব। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, কাজের মান বজায় থাকছে কি না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এসব বিষয়েও থাকবে নাগরিকদের কড়া নজর। কারণ উন্নয়ন শুধু প্রকল্প হাতে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ শেষ করাই প্রকৃত সাফল্য।

রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সংগঠক হিসেবে তার দৃঢ়তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক কর্মকা-ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশাসনের বাস্তবতা রাজনীতির চেয়ে ভিন্ন। এখানে প্রতিশ্রুতির চেয়ে দৃশ্যমান কাজই মানুষের আস্থা অর্জনের প্রধান উপায়।

নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম শিল্পনগরী। এই শহরের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সড়ক, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ উন্নয়ন—সবকিছুই শিল্প ও বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়ন শুধু নগরবাসীর জীবনমানই উন্নত করবে না, বরং শিল্পনগরীর অর্থনৈতিক সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী করবে।

সবশেষে বলা যায়, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সামনে এখন একদিকে যেমন ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বাস্তবায়নের সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নগরবাসী এখন আর নতুন প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় দৃশ্যমান পরিবর্তন। ঘোষিত বাজেটের প্রতিটি পরিকল্পনা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে নারায়ণগঞ্জ সত্যিই একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হতে পারে। আর যদি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা আসে, তবে বড় বাজেটও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। তাই এখন পুরো নগরবাসীর দৃষ্টি একটি বিষয়েই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।